জার্মানির মেনডিং শহরে সম্প্রতি আহমদীয়া মুসলিম জামাতের ঐতিহ্যবাহী বার্ষিক সম্মেলন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্বজুড়ে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এই সম্মেলনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুপম আদর্শ অনুসরণের জোরালো আহ্বান জানানো হয়। জার্মানির মাটিতে এটি ছিল এই সংগঠনের ৫০তম বার্ষিক জলসা, যা ঘিরে দেশটিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল।
কয়েকদিন আগে বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে এই তিন দিনব্যাপী বিশাল আয়োজনের শুভ সূচনা করেন আহমদীয়া মুসলিম জামাত জার্মানির ন্যাশন্যাল আমির আব্দুল্লাহ ওয়াগিস হাউজার। জার্মানির ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম এই মুসলিম সমাবেশে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৪৮ হাজারেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নেন। সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত এই জলসা বিশ্ববাসীর কাছে ইসলামের প্রকৃত শান্তির বাণী পৌঁছে দেওয়ার এক অনন্য মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে।
সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলাররা পবিত্র কোরআনের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য, ইসলামে শান্তি ও সম্প্রীতির ধারণা, সন্তান পালনে অভিভাবকদের কর্তব্য এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। এছাড়া জলসার দ্বিতীয় দিনে যুক্তরাজ্য থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিশেষভাবে নারীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন বিশ্ব আহমদীয়া খলিফা হযরত মির্যা মাসরূর আহমদ।
এই মহাসম্মেলনের সমাপনী দিনে যুক্তরাজ্য থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির ভাষণ দেন বিশ্ব আহমদীয়া খলিফা হযরত মির্যা মাসরূর আহমদ। তিনি সময়মতো নামাজ আদায় করা, শিরক থেকে দূরে থাকা, দেনা পরিশোধের ক্ষেত্রে মহানবীর শিক্ষা এবং বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় আহমদী মুসলমানদের দায়িত্ব ও কর্তব্য বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পরিশেষে, তিনি সমগ্র বিশ্বের শান্তি, স্থায়িত্ব ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন এবং এই আয়োজন উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান।
উল্লেখ্য, জার্মানিতে আহমদীয়া মুসলিম জামাতের প্রচার ও প্রসারের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ ও ঐতিহ্যমণ্ডিত। শতবর্ষের বেশি সময় আগে, অর্থাৎ ১৯২২ সালে বাংলার কৃতি সন্তান ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ খান সাহেব মৌলবী মোবারক আলী প্রথম ইসলাম প্রচারক হিসেবে জার্মানিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৯২৩ সালে তার উদ্যোগেই বার্লিনে দেশের প্রথম মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল, যদিও রাজনৈতিক নানা পটপরিবর্তনের কারণে সেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় লেগেছিল।