ইবি প্রতিনিধি:
দেশে ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আগামী দিনে আরও একটি বিপ্লব সংঘটিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এস এম ফরহাদ। তিনি বলেন, পিএসসি, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন রাখার যে জনআকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় দাবি আদায়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ৭টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এস এম ফরহাদ আরও বলেন, “আমরা অতীতে একবার রক্ত দিয়েছি, বারবার এই রক্ত দেওয়ার ইচ্ছে আমাদের নেই। হয় আপনাদের পিছু হটতে হবে, নতুবা আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে হবে। ঘোষিত সাত দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামীতে ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
সরকারি নিয়োগে দলীয়করণের চেষ্টার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “প্রাথমিক পর্যায়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয়করণের পাঁয়তারা ব্যর্থ হয়েছে। সর্বশেষ বিসিএসেও অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থীকে বাদ দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। পরবর্তীতে চাকসু, ডাকসু, জাকসু ও রাকসুর নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমে এলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়। কিন্তু বর্তমানে আবারও বিভিন্ন কৌশলে দলীয় লোক নিয়োগের ষড়যন্ত্র চলছে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে জনগণের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, প্রায় ৭০ শতাংশ নাগরিক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও পুলিশ কমিশন স্বাধীন করার পক্ষে মতামত দিয়েছেন। অতএব, সংস্কারের এই আলোচনাগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।
পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদেক কায়েম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (চাকসু) সহ-সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি, ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আবু মুসা, ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাফি সহ বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক ও ছাত্র নেতারা।