মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় একটি বসতঘরের সিঁড়ির নিচ থেকে অত্যন্ত বিষধর প্রজাতির পাঁচটি মনোক্লেড কোবরা সাপের বাচ্চা উদ্ধার করা হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলার কমলগঞ্জ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশের পানিশালা এলাকায় জাপান প্রবাসী মুজাহিদ আলীর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। দিনের বেলা হঠাৎ করে ঘরের ভেতরে এতগুলো বিষধর সাপের উপস্থিতি দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন প্রবাসী মুজাহিদ আলীর পরিবারের সদস্যরা। তাৎক্ষণিকভাবে তারা কী করবেন বুঝতে না পেরে চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে সময় কাটাতে থাকেন এবং বিষয়টি স্থানীয়দের জানান।
পরিবারের লোকজনের শোরগোলে স্থানীয়দের মাধ্যেমে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তা ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মীরা। এর আগে জরুরি সেবার নম্বরে যোগাযোগ করে আশানুরূপ সমাধান না পাওয়ায় স্থানীয় রাজকান্দি রেঞ্জ কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। খবর পাওয়ার পর রাজকান্দি রেঞ্জের কর্মকর্তা তানভীর আহমদ, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ অবিলম্বে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
বিশেষজ্ঞ দলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সিঁড়ির নিচের অংশ তল্লাশি করে দেখতে পান সেখানে ঘাপটি মেরে রয়েছে অত্যন্ত বিষধর জাতের মনোক্লেড কোবরা বা গোখরো সাপের বাচ্চা। পরবর্তীতে পেশাদার ও বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারীদের দক্ষ তৎপরতায় একে একে মোট পাঁচটি সাপের বাচ্চাকে অক্ষত অবস্থায় নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের বিষধর সাপের এমন উপস্থিতি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছিল।
উদ্ধারকৃত বিষধর সাপের বাচ্চাগুলোকে পরবর্তীতে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের শ্রীমঙ্গল রেঞ্জ কার্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান যে, প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর এই সাপের বাচ্চাগুলোকে নিরাপদ কোনো বনে অবমুক্ত করা হবে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের বন্যপ্রাণী উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকেই বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন এবং বন বিভাগের দ্রুত পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।