পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় গঙ্গা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার বেশ ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। নদীর এই আকস্মিক স্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তৃপক্ষ ফারাক্কা ব্যারেজের ১০৯টি গেটের সবগুলোই একসঙ্গে খুলে দিয়েছে। এর ফলে ব্যারেজের আপারস্ট্রিম থেকে ডাউনস্ট্রিমে বিপুল পরিমাণে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে, যা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলগুলোতে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ফারাক্কা ব্যারেজের জেনারেল ম্যানেজার আর ডি দেশপান্ডে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রায় ১৬ লাখ কিউসেক পানি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ফিডার ক্যানেলের মাধ্যমেই প্রবাহিত হচ্ছে প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক পানি। সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ডাউনস্ট্রিমে গঙ্গার পানির উচ্চতা বর্তমানে প্রায় ২৩.৭৫ মিটারে পৌঁছেছে, যা নির্ধারিত বিপৎসীমা ২২.২৫ মিটারের চেয়ে প্রায় ১.৫ মিটার ওপরে অবস্থান করছে।
পানির উচ্চতা এই মাত্রায় পৌঁছে যাওয়ায় নদীর দুই পাড়ের সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ছোটন ঘোষ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন যে, পানির এই উচ্চপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে বেনিয়াগ্রামসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হতে পারে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনকে আগের তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক ও তৎপর থাকতে দেখা যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এরই মধ্যে গত ৯ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে তারানগর অঞ্চলে নতুন করে নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের আতঙ্ক আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। লালগোলা ও রঘুনাথগঞ্জ থানার সীমান্তবর্তী তারানগর ও রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামে বিগত দুই বছর ধরে চলা ভাঙনে এরই মধ্যে বহু ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সবমিলিয়ে আকস্মিক এই পানিবৃদ্ধি এবং ভাঙনপ্রবণতা গঙ্গাপাড়ের জনজীবনকে মারাত্মক বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে।