সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি আসিফ মাহমুদকে দুর্নীতি দমন কমিশনে যাওয়ার পরিবর্তে সরাসরি তাঁর মুখোমুখি হওয়ার প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। রাশেদ খাঁন দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ কোনো দুর্নীতি করেছেন কি না, তা তিনি নিজেই সবার সামনে অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে দিবালোকের মতো স্পষ্ট করে দেবেন।
ওই ফেসবুক পোস্টে সরকারের দায়িত্বশীল পদে থাকাকালীন আসিফ মাহমুদের বিদেশ সফর নিয়ে বেশ কিছু গুরুতর প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী। তিনি জানতে চান যে, একজন সরকারি উপদেষ্টা হয়েও আসিফ মাহমুদ ঠিক কোন যুক্তিতে ও কী উদ্দেশ্যে বেসরকারি সফরে দুবাই গিয়েছিলেন, যার কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা তিনি আজও প্রদান করতে পারেননি। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদকালে গণমাধ্যমে আসা বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তৎকালীন দুর্নীতি দমন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রাশেদ খাঁন আরও উল্লেখ করেন যে, সেই সময়কার দুদক যদি সত্যিকার অর্থেই নিরপেক্ষ ও স্বাধীন ভূমিকা পালন করত, তবে এপিএস মোয়াজ্জেমের পাশাপাশি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিয়েও সুনির্দিষ্ট তদন্ত করা উচিত ছিল। অতীতে যদি এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে যথাযথ আইনি তদন্ত সম্পন্ন হতো, তবে বর্তমান সময়ে এসে নতুন করে কোনো তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার প্রয়োজন হতো না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আসিফ মাহমুদের রাজনৈতিক অবস্থান ও দলের ভেতরকার পরিস্থিতি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী জানান, জাতীয় প্রেস ক্লাবে কিংবা নিজের দলের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদের পাশে দলের কোনো শীর্ষস্থানীয় নেতাকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। শীর্ষ নেতাদের এই অনুপস্থিতি থেকে প্রশ্ন ওঠে যে, তারা কি আসিফ মাহমুদের দায়ভার এড়াতে চাচ্ছেন এবং নিজেদের গায়ে কোনো প্রকার বিতর্কের দাগ লাগাতে নারাজ কি না।
সবশেষে রাশেদ খাঁন অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আনেন এবং জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সঙ্গে আসিফ মাহমুদের সম্পর্কের বিষয়টির অবতারণা করেন। তিনি জানতে চান যে, অতীতে জামায়াতের আমির কেন দুর্নীতির অভিযোগের কারণে ঢাকা-১০ আসন ছাড়তে রাজি হননি এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অনুরোধ সত্ত্বেও কেন তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এ ধরনের নানা অমীমাংসিত প্রশ্নের মধ্য দিয়ে তিনি আসিফ মাহমুদের রাজনৈতিক স্বচ্ছতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা অব্যাহত রেখেছেন।