ইমাম হাছাইন পিন্টু, নাটোর
নাটোরের গুরুদাসপুরে কোনো ধরনের অনুমতি ও টেন্ডার ছাড়াই প্রায় তিন বছর আগে নির্মিত ২৩ লাখ টাকার একটি বিজ্ঞান ভবন ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ধানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোলভী মো. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে। এছাড়া বিদ্যালয়ের একটি টিনের ঘর গুঁড়িয়ে দিয়ে তার মালামাল বিক্রিরও অভিযোগ রয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের নজরে এলে ওই প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।
গত রোববার (রবিবার) ইস্যু করা ওই নোটিশে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নে এবং ইউজিডিপির অর্থায়নে বিদ্যালয়টিতে তিনতলা ভিত্তির ওপর একতলা বিজ্ঞান ভবনটি নির্মাণ করা হয়। এতে মোট ব্যয় হয় ২২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৬২ টাকা। পরে নির্মাণকাজ শেষে ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সম্পূর্ণ ব্যবহারোপযোগী থাকা সত্ত্বেও ভবনটি আকস্মিকভাবে ভেঙে ফেলা হয়। পাশাপাশি একটি টিনের ঘরও অপসারণ করে কোনো ধরনের টেন্ডার ছাড়াই ভবন ও ঘরের সমস্ত মালামাল বিক্রি করে দেওয়া হয়। এরপর গত ২৬ আগস্ট পুরোনো ওই জায়গাতেই ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা ভিত্তির ওপর নতুন একতলা একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই ফলক উন্মোচন করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম আক্তার জানান, সরকারি অর্থায়নে নির্মিত কোনো ভবন অনুমতি ছাড়া ভেঙে ফেলা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষককে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং তিন কর্মদিবসের মধ্যে জবাব তলব করা হয়েছে।
অপরদিকে প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন শিক্ষা অফিস থেকে শোকজ চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, তিনি ইতিমধ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এর জবাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছেন।
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ধানুড়া স্কুলের ভবন ভাঙার বিষয়টি তার জানা ছিল না। নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনো শিক্ষক স্কুলের ভবন ভাঙতে পারেন না। এ ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।