রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন
Title :
কোয়াবের নতুন উপদেষ্টা কমিটিতে সুজন-সালমা-হাবিবুল হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বাল্যবিয়ে বন্ধ, ইউএনওর গাড়িতে হামলা করে বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা গুমের প্রতিটি ঘটনার বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে: নাহিদ ইসলাম রংপুরে ৪ খুন: ডিবি হেফাজতে সিদ্ধার্থের বাবা-ভাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ও প্রভাবমুক্ত ভোটের আশ্বাস স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর মোহাম্মদপুরে অপরাধ দমনে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশে চায় র‌্যাব যমুনায় সরকারি ওষুধ ফেলার চেষ্টা, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ওএসডি আ.লীগকে যে দোষে বিদায় করেছি, বিএনপিও প্রায় সেই পথেই যাচ্ছে: গোলাম পরওয়ার ‘স্বাধীন তদন্ত ক্ষমতা না থাকলে গুম ও মানবাধিকার কমিশনের কোনো দরকার নেই’

‘স্বাধীন তদন্ত ক্ষমতা না থাকলে গুম ও মানবাধিকার কমিশনের কোনো দরকার নেই’

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪ Time View
6

স্বাধীন তদন্ত ক্ষমতা না থাকলে প্রস্তাবিত গুম কমিশন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের জন্য নতুন কোনো আইনের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মীরা।

তারা বলেছেন, মানবাধিকার কমিশন কিংবা গুম কমিশন নিজ তত্ত্বাবধানে বা স্বাধীনভাবে কাজ করতে যেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে যদি না পারে, তবে জনগণের অর্থ দিয়ে এমন কমিশন রাখার দরকার নেই। সংসদের পাশ হতে যাওয়া সংশোধিত আইনে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে তদন্তের বিধান বাতিলেরও দাবি জানান।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘বলপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম। আরও বক্তব্য দেন গুমের ভুক্তভোগী ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আরমান বিন কাসেম, সাবেক গুম বিষয়ক তদন্ত কমিশনের সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস, এইচআরএসএস-এর উপদেষ্টা মো. নূর খান, ব্লাস্টের অনারারি নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলম এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শাইখ মাহদী প্রমুখ।

বিচারহীনতার অবর্ণনীয় ও মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন গুমের শিকার মিজান জমাদ্দারের স্ত্রী নাসিমা বেগম, জাকির হোসেনের ভাই মো. জিয়াউর রহমান, ইদ্রিস আলী পান্নার ছেলে মামুনুর রশিদ, রেজিয়া বেগম রেবীর ছেলে সাজেদুল কবির সাজিল, মিরাজ শেখের বোন লিজা ইসলাম এবং কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মুকাদ্দাস হোসেনের চাচা আবদুল হাই মুহাম্মদ। এইচআরএসএস-এর উপদেষ্টা মো. নূর খান ২০১০ থেকে ২৬ সাল পর্যন্ত সংঘটিত গুমের বিভিন্ন লোমহর্ষক ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, অতীতে এমন একটা পরিস্থিতি ছিল যখন প্রতিদিন গুমের শিকার ভিকটিমদের লাশ নদী বা মাটিচাপা দেওয়া অবস্থা থেকে উদ্ধার করা হতো। গুমের ঘটনাগুলোর মূল সত্য আড়াল করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন জঘন্য কৌশল ও নাটক সাজাতো।

একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, গুলিস্তান থেকে যুবদল কর্মী রফিককে তুলে নিয়ে হত্যার পর ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া সীমান্তে লাশ ফেলে দেওয়া হয়। পরে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে রফিকের স্ত্রী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে কুৎসিত ঘটনা প্রচার করে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করা হয় এবং সামাজিকভাবে হেয় করতে নানা অপপ্রচার চালানো হয়।

তিনি আরও বলেন, গুমের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত সুকৌশলে বিভিন্ন ইউনিটকে ব্যবহার করত। এক বাহিনী তুলে নিয়ে অন্য বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করত, কিংবা যৌথভাবে অপারেশন চালাতো। ফলে অনেক সময় ভিকটিম বা তাদের পরিবার বুঝতেই পারত না, আসলে কারা তাদের তুলে নিয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তর বা টিমগুলো একে অপরকে চিনত না; তাদের নিয়ন্ত্রণ করতেন কারাবন্দি জিয়াউল আহসান।

ঝালকাঠি ও বরিশালের গুমের ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, মেজর রাশেদকে পরিচালনা করতেন জিয়াউল আহসান। তিনি ঢাকা থেকে বন্দিদের বরিশালে নিয়ে হত্যা করতেন। সাধারণ পুলিশের পক্ষে এই জটিল স্তর ভেদ করে তদন্ত করা অত্যন্ত কঠিন। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রকে গুম করার ঘটনার আশপাশে ডিবি, র‍্যাবের সংশ্লিষ্টতা উঠে এসেছে। ওই ঘটনাস্থলের ১০০ ফুট দূরত্বে ডিজিএফআইয়ের ইন্টারগেশন সেল রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নূর খান আরও বলেন, এসব জটিল ও রহস্যজনক ঘটনার পেছনের সত্য উদঘাটন করতে হলে তদন্ত কমিশনের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকতে হবে। যেকোনো স্থানে প্রবেশ, যেকোনো ব্যক্তিকে তলব এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের একচ্ছত্র ক্ষমতা থাকতে হবে। সাধারণ পুলিশের পক্ষে এই ধরনের স্পর্শকাতর ও ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

অ্যাডভোকেট সারা হোসেন বলেন, রাজনৈতিক কারণে হয়রানি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন পুরোপুরি বন্ধ হওয়া উচিত। মতাদর্শের কারণে কাউকে বেআইনিভাবে আটক রাখা কিংবা কারা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত না হওয়া—আমরা এর অবসান চাই।

পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) হোক বা সাধারণ আদালত, বিচার প্রক্রিয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরও ন্যায়বিচার পাওয়ার মৌলিক অধিকার রয়েছে। আমাদের সংবিধানে এই নিশ্চয়তা থাকতে হবে। আমরা জানি, অতীতে অনেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে তাদের অপরাধী সাজিয়ে গুম করা হয়েছে। তাই যেকোনো অভিযুক্ত বা সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিরও মৌলিক মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

আইন দুটিকে শুভঙ্করের ফাঁকি উল্লেখ করে নাবিলা ইদ্রিস বলেন, প্রস্তাবিত গুম সংক্রান্ত আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনে স্বাধীন তদন্ত ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে। যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আসবে, স্বাধীন তদন্ত করা যাবে না—এই হলো দুটো আইনের মূল বাধা।

তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, গুম সংক্রান্ত আইনের ​ধারা ১৪-তে প্রথমে বলা হয়েছে পুলিশের কাছে অভিযোগ দিতে হবে। পুলিশের কাছে অভিযোগ দেওয়ার কষ্ট ও বাধা তো সবাই জানে। ​গুম কমিশনের দেড় হাজার কেসের মধ্যে মাত্র আড়াইশ সমসাময়িক পুলিশি দাপ্তরিক প্রমাণ আছে, কারণ পুলিশ সাধারণত এসব ক্ষেত্রে জিডি নিতে চায় না। নাগরিক সমাজের চাপের পর ধারা ১৪(৩) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে বলা আছে, যে বাহিনী অভিযুক্ত, সেই বাহিনী তদন্ত করতে পারবে না।

​অথচ ডিবি পরিচয়ে বা সাদা পোশাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর সেটা আদৌ ডিবি কি না, তা আমরা কখনো জানি না। গুম কমিশনের রিপোর্টে স্পষ্টভাবে এসেছে যে এক বাহিনী অন্য বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে।

​আন্তঃবাহিনী তদন্ত দলকে স্বার্থের সংঘাত না হওয়ার কথা বলা হলেও, শহীদ উদ্দিন আলমগীর বা গুম কমিশনের রিপোর্ট দেখলে বোঝা যায় বাহিনীগুলো যৌথভাবে কাজ করতো। তাছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের ধারা ১৯ ​অনুযায়ী আপনি অভিযোগ নিয়ে গেলে যদি অভিযুক্ত কোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ইউনিফর্ম পরা ব্যক্তি হন, তবে মানবাধিকার কমিশন বলবে যে তাদের কিছু করার নেই এবং তারা সরাসরি অভিযুক্ত তাকেই জিজ্ঞেস করবে।

​এ ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া নেই। অভিযুক্ত বাহিনী চাইলে অনন্তকাল সময় নিতে পারে।

​কমিশন দ্বিতীয় কোনো সুপারিশ পাঠালেও আরও ৪৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। এরপরও যদি কমিশনের মনঃপূত না হয়, তবেই কেবল তারা পদক্ষেপ নিতে পারবে, ততদিনে ঘটনার কোনো প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যাবে না।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com