মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন

কুলিয়ারচরে আবারও এসএসসির ফলাফলে ছয়সূতী ইউনিয়ন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ শীর্ষে

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
  • ২১ Time View
25

নিজস্ব প্রতিবেদক, মোঃ মাইন উদ্দিন :

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে আবারও শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ঐতিহ্যবাহী ছয়সূতী ইউনিয়ন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ধারাবাহিক সাফল্যের পথ ধরে এবারও পাসের হার, জিপিএ-৫ এবং সামগ্রিক ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটি উপজেলার অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় এগিয়ে রয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ছয়সূতী ইউনিয়ন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান শাখা থেকে ১৫১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১৮ জন। তাদের মধ্যে ১৫ জন জিপিএ-৫ এবং ৩২ জন এ-গ্রেড পেয়েছে। এ শাখায় পাসের হার ৭৮ দশমিক ১৫ শতাংশ।
অন্যদিকে, ভোকেশনাল শাখায় ৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪৩ জন। এ শাখায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন এবং এ-গ্রেড পেয়েছে ৪০ জন। পাসের হার ৭৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
দুই শাখা মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির জিপিএ-৫-এর সংখ্যা ১৮ এবং এ-গ্রেড পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭২। ফলাফলের এই সাফল্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবদুল মালেক বলেন, এ অর্জন শুধু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একার নয়। শিক্ষক-কর্মচারী, গভর্নিং বডির সভাপতি ও সদস্য, অভিভাবক এবং সর্বোপরি শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এ সাফল্য এসেছে।
আগামী দিনেও এ সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
ছয়সূতী ইউনিয়ন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ সাফল্য এবারই প্রথম নয়। ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলেও প্রতিষ্ঠানটি কুলিয়ারচর উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছিল। এ ছাড়া চলতি বছর জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির একজন শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে এবং পাঁচজন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়ে উপজেলায় শীর্ষস্থান অর্জন করে।
অপরদিকে উপজেলার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, লক্ষ্মীপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৩০ জনের মধ্যে পাস করেছে ৯২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। পাসের হার ৭০ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
ফরিদপুর ইউনিয়ন আবদুল হামিদ ভূঞা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৪০ জনের মধ্যে পাস করেছে ১০০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ জন। পাসের হার ৭১ দশমিক ৯৪ শতাংশ। তবে এর মধ্যে ৫২ ছিল বিশেষ পরীক্ষার্থী। এ বছরের নিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিল ৮৮ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ৮৬ জন। ১ জন অকৃতকার্য হয়েছে আর ১ জন পরীক্ষা দেয়নি। ৫২ বিশেষ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪ উত্তীর্ণ হয়েছে, ৩৮ জন অকৃতকার্য হয়েছেন।
কুলিয়ারচর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৩২ জনের মধ্যে ৯৬ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। পাসের হার ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
বেগম নুরুন্নাহার পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮২ জনের মধ্যে পাস করেছে ৬০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। পাসের হার ৭৩ দশমিক ১৭ শতাংশ।
আগরপুর গোকুল চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২৭ জনের মধ্যে ৮৭ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। পাসের হার ৬৮ দশমিক ৫০ শতাংশ।
এমাদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৩২ জনের মধ্যে ৭৭ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
গোবরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৯ জনের মধ্যে ৩৬ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। পাসের হার ৭৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
মুছা মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৯ জনের মধ্যে পাস করেছে ৪৯ জন। পাসের হার ৬২ দশমিক ০৩ শতাংশ।
আব্দুল্লাপুর বড়চারা আইভি রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩২ জনের মধ্যে ২৫ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭৮ দশমিক ১২ শতাংশ।
আবুল কাশেম উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৭৮ জনের মধ্যে পাস করেছে ৯৪ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ৮১ শতাংশ।
বীর কাশিম নগর ফেদাউল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫২ জনের মধ্যে ৩০ জন পাস করেছে। পাসের হার ৫৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
লায়ন মুজিব মুনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২১ জনের মধ্যে ১৭ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮০ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
বাংলাবাজার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২৪ জনের মধ্যে ৪১ জন পাস করেছে। পাসের হার ৩৩ দশমিক ০৬ শতাংশ।
জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৫ জনের মধ্যে ১৭ জন পাস করেছে। পাসের হার ৩৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আলিফ বিজ্ঞান ও কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৩৩ জনের মধ্যে ১২ জন পাস করেছে। পাসের হার ৩৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
সালুয়া কারিগরি বিএম কলেজে ১০ জনের মধ্যে একজন পাস করেছে। পাসের হার ১০ শতাংশ।
লক্ষ্মীপুর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজে ৬০ জনের মধ্যে ৪৯ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮১ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
মাদ্রাসা পর্যায়ে সালুয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ৬৯ জনের মধ্যে ৩৮ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। পাসের হার ৫৫ দশমিক ০৭ শতাংশ।
গোবরিয়া ই.ইউ ফাজিল মাদ্রাসায় ৪১ জনের মধ্যে ৩৩ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। পাসের হার ৮০ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
উপজেলা পর্যায়ের সামগ্রিক ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর কুলিয়ারচরের ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১ হাজার ৭৪০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ১১৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ৫২ জন।
শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক ভালো ফল শুধু পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর পেছনে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষকদের আন্তরিকতা, শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় কার্যকর পরিকল্পনার সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ছয়সূতী ইউনিয়ন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ধারাবাহিক ফলাফল সেই সমন্বিত প্রচেষ্টারই একটি প্রতিফলন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com