নিজস্ব প্রতিবেদক, মোঃ মাইন উদ্দিন :
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ফরিদপুর ইউনিয়ন আবদুল হামিদ ভূঞা উচ্চ বিদ্যালয়। এ বছর বিদ্যালয়টির ১০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, চলতি বছর বিদ্যালয়টি থেকে মোট ১৪০ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১০০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৪০ জন।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৮ জন ছিল ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থী। বাকি ৫২ জন ছিল আগের বছরের পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে বিশেষ পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী।
নিয়মিত ৮৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, একজন অকৃতকার্য এবং একজন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। উত্তীর্ণ ৮৬ জনের মধ্যে ১০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। অন্যদিকে, ৫২ জন বিশেষ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৪ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৩৮ জন।
বিদ্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সব পরীক্ষার্থী মিলিয়ে এ বছর বিদ্যালয়টির পাশের হার ৭১ দশমিক ৯৪ শতাংশ। পাশের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা- উভয় দিক থেকেই এবারের ফলাফল বিদ্যালয়টির অতীতের সাফল্যের ধারাবাহিকতার কাছাকাছি রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে বিদ্যালয়টি একাধিকবার পাশের হারের উপজেলায় প্রথম স্থানে ছিলো।
এ প্রসঙ্গে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, এবারের ফলাফলে আমরা আনন্দিত। তবে আমরা এখানেই থেমে থাকতে চাই না। আগামী দিনে এই সাফল্যের চেয়েও ভালো ফলাফল অর্জনের প্রত্যাশা করছি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবদুল কাদির বলেন, এই অর্জন শুধু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একার নয়। এটি শিক্ষক-কর্মচারী, পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সদস্য, অভিভাবক এবং সর্বোপরি শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আগামী দিনে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের লক্ষ্যে আমরা সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাব।
বিদ্যালয়ের ১০ শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জন এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় উপজেলার মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে অতীতের দিকে অগ্রসর হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।