ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেন চলাচল শুরু হচ্ছে। আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর ব্যাসপুর রেলস্টেশনে ট্রেন চলাচলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম, বিশেষ অতিথি থাকবেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর।
স্বল্প খরচে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াতের পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, নড়াইল, বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার ব্যবসা-বাণিজ্যে ট্রেনটি নতুন গতি আনবে বলে আশা স্থানীয়দের।
গোপালগঞ্জ রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশনমাস্টার রত্না বৈদ্য জানান, সোমবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশে প্রথম যাত্রা শুরু করবে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’। ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে গোপালগঞ্জে পৌঁছাবে। এরপর একই দিন সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে গোপালগঞ্জ থেকে ছেড়ে রাত ১০টা ২৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে।
তিনি আরও জানান, প্রায় ৭০০ আসন বিশিষ্ট এই ট্রেনে যাত্রীরা প্রয়োজনীয় লাগেজ পরিবহনের সুযোগ পাবেন। আগে রাজশাহীর সঙ্গে ট্রেন সেবা থাকলেও ঢাকার সঙ্গে সরাসরি কোনো ট্রেন ছিল না। নতুন এই সেবা চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং সরকারের রাজস্ব বাড়বে।
গোপালগঞ্জের রেলযান পরীক্ষক (টিএক্সআর) পল্লব কান্তি বিশ্বাস জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম, এস এম জিলানী ও ডা. কে এম বাবরের প্রচেষ্টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ট্রেন চালু হচ্ছে। প্রায় ১৮টি বাসের সমান যাত্রী বহনকারী এই ট্রেনের টিকিট মাত্র ১৪৫ টাকায় পাওয়া যাবে। ভবিষ্যতে বাড়তি লাগেজ বগি যুক্ত করা গেলে কৃষকরা নামমাত্র খরচে ঢাকায় শাকসবজি পাঠাতে পারবেন।
গোপালগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, বাসে যেখানে নন-এসিতে ৫০০ এবং এসিতে ৬৫০ টাকা লাগে, সেখানে মাত্র ১৪৫ টাকায় ট্রেনের যাতায়াত সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তি। এর সুফল পাশের রোজপুর ও বাগেরহাটের বাসিন্দারাও পাবেন।
কুয়াডাঙা এলাকার বাসিন্দা সোহাগ মিয়া জানান, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ঘন ঘন দুর্ঘটনা ঘটে। সে তুলনায় রেলযাত্রা অনেক বেশি নিরাপদ। গোপালগঞ্জ থেকে কাছেই নড়াইলের কালিয়া, বাগেরহাটের মোল্লাহাট ও চিতলমারী এবং পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার বাসিন্দারাও এই ট্রেনের সুবিধা পাবেন।
গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী শ্যামলী নাসরিন ও তামান্না তানজিন বলেন, জেলায় বিশ্ববিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান থাকায় সারাদেশের মানুষ এখানে থাকেন। বাস ভাড়ার চার ভাগের এক ভাগ খরচে ট্রেন যাতায়াতে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
ট্রেনের সময়সূচি নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রমিজ উদ্দিন ও সোহেল হায়দার নামে দুই স্থানীয় বাসিন্দা। তারা জানান, ট্রেনটি সকালে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়লে মানুষ দিনে দিনে কাজ শেষ করে ফিরে আসতে পারত। এ ছাড়া শনিবার দিনটিতে ট্রেন বন্ধ না রেখে অন্য কোনো দিন সাপ্তাহিক ছুটি নির্ধারণের জন্য তারা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।