রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন এবং এরপর সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। স্পিকার তার দায়িত্ব গ্রহণকালে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সবকিছু সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার আলোচ্যক্রমে হয়েছে। বিদায়ী রাষ্ট্রপতি শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৫টা ১ মিনিটে পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা করেন।
বিএনপির নেতারা বিষয়টিকে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার দিক থেকে দেখে মন্তব্য করেছেন। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার বলেছেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ সম্মানের যোগ্য; বর্তমানে অনেকে পদত্যাগ করতে চান না, তাই এ ঘটনা গুরুত্ব বহন করে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে বর্তমান রাষ্ট্রপতি তিনটি ভিন্ন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন—যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল ঘটনা—এবং এখন তার পদত্যাগের মাধ্যমে ওই অধ্যায়টি শেষ হলো বলে মনে করছেন দলটির একাংশ।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করে যে সাংবিধানিক শূন্যতা ছিল তা পূরণ করেছেন এবং এটি সংবিধানানুযায়ী হয়েছে। দলটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব, যার মধ্যে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও আছেন, তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন না; তারা পর্যবেক্ষণ করে পরে موقف জানাবেন বলেই দলের ভিতরের সূত্রগুলো জানিয়েছে।
পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিনের শরীরগত কারণ দেখানো হয়েছে—হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা ও অটোনমিক নিউরোপ্যাথি—যার ফলে মাঝে মাঝে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন এবং তার হৃদযন্ত্রে পূর্বে বাইপাসও করা হয়েছে। এসব দীর্ঘমেয়াদি অসস্থতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব অব্যাহত রাখা তার পক্ষে সম্ভব নয় বলে উল্লিখিত হয়েছে।