শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশে এক অমানবিক রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাংশ সরকারের হীন উদ্দেশ্য হাসিলে দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘আয়নাঘর’ বা গোপন নির্যাতনকেন্দ্র তৈরি করেছিল। সম্প্রতি ডিজিএফআইয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি। প্রসিকিউটর দাবি করেন, তদন্ত ও সাক্ষীদের জবানবন্দিতে প্রমাণ মিলেছে যে, এই গোপন সেলে তারেক রহমান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী ও হুম্মাম কাদের চৌধুরীর মতো ব্যক্তিদের বন্দি রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল।
পরিদর্শনকারী বিচারকদের নিয়ে তিনি আরও বলেন, সেখানে বন্দিদের রাখা ভয়াবহ পরিস্থিতির বাস্তব প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা ন্যায়বিচারের স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমিনুল ইসলাম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যাতে বাংলাদেশে এ ধরনের বিচারবহির্ভূত বন্দিশালা বা টর্চার সেলের অস্তিত্ব আর না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করার আইনি প্রক্রিয়া থাকলেও কোনো নাগরিককে এভাবে নিগ্রহ করা অগ্রহণযোগ্য। পাশাপাশি, তিনি ট্রাইব্যুনালের বিচারিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানান, বর্তমান প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে এবং গুম ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের পর্যায়ক্রমে বিচারের আওতায় আনা হবে।