চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনি অভিভাবকদের মনের ভেতর ভয়ের মাত্রা দিন দিন চরম রূপ ধারণ করছে। প্রতিদিনের চেনা বাস্তবতায় সন্তানকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে জীবিত ফিরিয়ে আনা যাবে কি না, তা নিয়ে তীব্র সংশয়ে দিন কাটাচ্ছেন তারা। ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের লাগাতার সহিংসতা ও আগ্রাসনের শিকার হয়ে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এমন এক অবরুদ্ধ ও আতঙ্কজনক পরিস্থিতিতে প্রতিটি প্রস্থানই যেন অনিশ্চিত এক যাত্রায় পরিণত হয়েছে।
ফিলিস্তিনি সমাজে ঐতিহ্যগতভাবে শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা এক কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে। স্কুলগামী কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অভিভাবকদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বোমা হামলা, গুলিবর্ষণ এবং যত্রতত্র তল্লাশি চৌকির হয়রানির কারণে পথেই বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ফলে সন্তান ঘরের বাইরে পা রাখার পর থেকে বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন মা-বাবারা।
স্থানীয় ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতার সুযোগ নিয়ে বসতি স্থাপনকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নিজেদের পৈত্রিক ভিটেমাটি আঁকড়ে থাকতে গিয়ে প্রতিদিন নানা ধরনের লাঞ্ছনা ও প্রাণনাশের হুমকির মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। এমতাবস্থায় শিশুদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে গিয়ে তাদের জীবনের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও আর নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে টিকে নেই, যা অভিভাবকদের চরম হতাশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এই গভীর সংকটময় পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনি অভিভাবকদের মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একদিকে মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা ও নাড়ির টান, অন্যদিকে সন্তান হারানোর আজীবন আতঙ্ক—এই দুইয়ের মাঝে পিষ্ট হয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তারা। অবিলম্বে এই নৃশংসতা বন্ধ না হলে একটি পুরো প্রজন্মের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।