যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী একটি বাণিজ্যিক বিমানে মাঝ আকাশে আকস্মিক চরম বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ থেকে নিউ জার্সির নিউয়ার্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট নম্বর ৬১৮-এ এই উদ্ভট পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্লেনটি আকাশে ওড়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর প্রথম শ্রেণির কেবিনে হঠাৎ করেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে মারাত্মক শঙ্কা তৈরি হয়। স্বাভাবিকভাবে চলা একটি যাত্রীবাহী ফ্লাইটে এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনায় মুহূর্তের জন্য চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সেখানে উপস্থিত অন্যান্য যাত্রীরা।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, প্রথম শ্রেণিতে বসা ৬৭ বছর বয়সী আর্থার লেইন লুন্ডিন নামের এক যাত্রী হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। তিনি প্রথমে তার পাশের এক যাত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং পরবর্তীতে তার ওপর শারীরিক আক্রমণ চালিয়ে বসেন। পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য ফ্লাইটের কেবিন ক্রুরা এগিয়ে গেলে তিনি তাদের ওপরও চড়াও হন এবং তাদের লক্ষ্য করে বর্ণবাদী ও সমকামীবিদ্বেষী কটূক্তি করতে শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীদের মতে, শান্ত পরিবেশের মাঝে হঠাৎ এমন আকস্মিক হামলায় পুরো বিমানজুড়ে হুলুস্থুল কাণ্ড বেধে যায় এবং চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় বিমানটির ক্রুরাসহ বেশ কয়েকজন সাহসী যাত্রীও হামলাকারীকে থামানোর জন্য এগিয়ে আসেন। সেখানে উপস্থিত অবসরপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা এবং অন্য এক যাত্রী মিলে লুন্ডিনকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। এ সময় ক্ষিপ্ত লুন্ডিন তাদের একজনের হাতে কামড় পর্যন্ত দেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। কোনো উপায় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ক্রুরা ওই যাত্রীর দুই হাত জিপ টাই দিয়ে বেঁধে ফেলেন এবং ফ্লাইটের শেষ পনেরো মিনিট তাকে সিটের সঙ্গে ডাক্ট টেপ দিয়ে শক্ত করে আটকে রাখেন।
যাত্রীর এমন উগ্র আচরণের কারণে প্লেনটি তার নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি এবং বাধ্য হয়ে মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। বিমানটি মাটিতে নামার সঙ্গে সঙ্গেই মেরিল্যান্ড ট্রান্সপোর্টেশন অথোরিটির পুলিশ অভিযুক্ত লুন্ডিনকে প্লেন থেকে আটক করে নিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার হামলা চালানো ও বিশৃঙ্খল আচরণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি, পুরো ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে এর তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই, যারা তার বিরুদ্ধে আরও কোনো ফেডারেল অভিযোগ দায়ের করা যায় কি না তা খতিয়ে দেখছে।
আইনি জটিলতার পাশাপাশি এই ঘটনার তাৎক্ষণিক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ওই যাত্রীর ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনেও। জানা গেছে, ঘটনার তীব্রতা ও সামাজিকভাবে মানহানিকর আচরণের কারণে অভিযুক্ত লুন্ডিনকে তার কর্মক্ষেত্র থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি অ্যারিজোনাভিত্তিক পরিচিত রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান লং রিয়েলটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং প্রতিষ্ঠানটি এই ন্যক্কারজনক ঘটনার কথা জানার পরই তার সঙ্গে সমস্ত পেশাগত সম্পর্ক চিরতরে ছিন্ন করেছে।