সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌর শহরে পৈতৃক জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার প্রতিবাদ করায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাইপাস রোড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় চরম অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, আব্দুল জলিল ও ছারোয়ার মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। অভিযোগ রয়েছে, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে ছারোয়ার মিয়া গোপনে ওই জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা চালান। আব্দুল জলিল বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা বাঁধে এবং স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে থানায় আসার নির্দেশ দেয়।
ভুক্তভোগী সাজু মিয়া বলেন, “আমাদের মালিকানা জমিতে তারা জোর করে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করলে আমরা কেবল নিষেধ করি। কিন্তু তারা কাজ না থামিয়ে হট্টগোল শুরু করে। পরে পুলিশ এসে কাজ বন্ধ করে দেয় এবং থানায় যেতে বলে। সন্ধ্যায় জানতে পারি আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা এজাহার দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয় দোকানদার রহিম মিয়া জানান, “ঘটনার সময় আমি দোকানেই ছিলাম। জমি নিয়ে উত্তেজনার কারণে দোকান বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। আমার দোকানে কোনো ভাঙচুর বা আর্থিক ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। এজাহারে আমার দোকানের ক্ষতির কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
ঘটনার সাক্ষী আশরাফুল ইসলাম জানান, ছোটবেলা থেকেই এই জমি নিয়ে উভয় পক্ষের বিরোধ দেখে আসছেন। সেদিন কেবল কথা কাটাকাটি হয়েছে, কোনো ধরনের মারামারি, ভাঙচুর বা লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি। অথচ স্থানীয়দের মুখ বন্ধ রাখতে এজাহারে অনেকের নাম জড়ানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ জানান, মূলত জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সেখানে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল এবং এজাহারে বেশ কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী শনিবার বিষয়টি মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে।