জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে স্কুলশিক্ষিকা রনজিনা পারভীন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল সন্দেহভাজন মোশাররফ হোসেন পনি ও তার সহযোগী সেড্রিককে গ্রেফতার করেছে র্যাব-২। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দাবি করেছে, ছিনতাইয়ের সময় ব্যবহৃত ইয়ামাহা আর-১৫ মডেলের মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে এবং প্রযুক্তিগত সহায়তায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। র্যাবের ভাষ্যমতে, পনি একজন পেশাদার অপরাধী যার বিরুদ্ধে রাজধানীসহ বিভিন্ন থানায় অন্তত ১৩টি মামলা রয়েছে।
তবে র্যাবের এই দাবির সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজের অমিল মেলায় জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরায় ছিনতাইকারীদের নীল রঙের মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে দেখা গেলেও, র্যাবের জব্দকৃত মোটরসাইকেলটি সাদা-কালো রঙের। এছাড়া গ্রেফতারকৃত মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের সামনে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, ফুটেজের মোটরসাইকেলের সঙ্গে তার বাইকের কোনো মিল নেই। এ বিষয়ে র্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে তাদের কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে।
নিহত শিক্ষিকার স্বামী আবদুল মতিন জানান, ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি মোটরসাইকেলের রঙ লক্ষ্য করার সুযোগ পাননি। এদিকে মোটরসাইকেলের মালিক রাকিবকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে র্যাব। মালিকের দাবি, অভিযুক্ত পনি জোরপূর্বক তার কাছ থেকে বাইকটি নিয়ে গিয়েছিলেন। তদন্তসাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।