রংপুর নগরীর কামালকাছনা এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার রাতে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারক রফিকুল ইসলামের কাছে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস হত্যার দায় স্বীকার করেন। এর আগে, নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ঘটনার রাতে আসামিরা পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে প্রবেশ করে ইয়াবা সেবন করছিল। বাড়ির মালিক তাদের দেখে ফেলায় ঘটনা জানাজানির ভয়ে তারা গণপতি চক্রবর্তীকে গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর একে একে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ১২ বছর বয়সী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। সাক্ষী না রাখার উদ্দেশ্যেই পুরো পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা বাসায় থাকা গহনা লুট করে এবং ডাইনিং টেবিলে রাখা খাবার ও ফ্রিজ থেকে শসা খেয়ে নিশ্চিন্তে সময় কাটায়। এমনকি লুন্ঠিত সোনার মান যাচাই করার জন্য তারা বাসার মধ্যেই আগুন দিয়ে তা গলিয়ে দেখার মতো দুঃসাহস দেখায়। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় পরিস্থিতি শান্ত হলে তারা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে গোয়েন্দা পুলিশের তৎপরতায় গ্রেফতার হওয়ার পর চাঞ্চল্যকর এই হত্যার রহস্য উন্মোচিত হয়।