আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছিলেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন। গত ৭ সেপ্টেম্বর নিজ এলাকা শুহিলপুরে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে তিনি দিনব্যাপী গণসংযোগ ও শোডাউন করেন। নির্বাচনী মাঠে তার এই সরব উপস্থিতি এবং প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন চলতে থাকে। অনেকেই ধারণা করেছিলেন শেষ পর্যন্ত তিনি হয়তো নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন, কিন্তু তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকার কথা স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
প্রচারণাকালে নিজের প্রার্থিতা নিয়ে চরম দৃঢ়তা প্রদর্শন করে এই বিএনপি নেতা কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে একটি বিশেষ মন্তব্য করেছিলেন। তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় ঘোষণা করেছিলেন যে, একমাত্র মৃত্যু ছাড়া অন্য কোনো শক্তি তাকে এই নির্বাচনী লড়াই থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারবে না। কাকতালীয়ভাবে তার এই কথাটিই যেন শেষ পর্যন্ত নির্মম বাস্তবে রূপ নেয়। প্রচারণার পুরো সময় জুড়ে তিনি অত্যন্ত উদ্যমী ও প্রাণবন্ত থাকলেও ঘুনাক্ষরেও কেউ বুঝতে পারেনি যে এই দিনটিই তার জীবনের শেষ দিন হতে যাচ্ছে।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জীবনে সাইফুল ইসলাম খোকন চান্দিনা উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ব্যাপক গণসংযোগের ব্যস্ততা শেষে ওই দিন রাতে তিনি নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন এবং স্বাভাবিকভাবেই বিশ্রামের প্রস্তুতি নেন। কিন্তু মধ্যরাতের দিকে হঠাৎ করেই তার শরীরে তীব্র ব্যথা অনুভূত হলে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে থাকায় স্বজনরা তাকে তড়িঘড়ি করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান এবং সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করেন।
দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন। কুমিল্লা উত্তর জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক এস এম মিজান এই বিএনপি নেতার আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদটি গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেন। পরদিন ভোরে ফজরের আজানের সময় স্থানীয় মসজিদের মাইকে তার মৃত্যুর খবর প্রচার করা হলে গোটা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। নির্বাচন করার ঘোষণা দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এমন আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার, রাজনৈতিক সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে শোকের মাতম চলছে।