গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুর সদর উপজেলার মনিপুর এলাকায় বন বিভাগের জমিতে লাগানো চারা গাছ তুলে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালের মালিক সাইফুল ইসলাম মোল্লার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের অনুমতি ছাড়াই তিনি এ কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের পাশাপাশি বন বিভাগের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের মনিপুর বিটের মনিপুর গ্যালাক্সি হাসপাতালের পূর্ব পাশে বন বিভাগের জমিতে সম্প্রতি লাগানো বেশ কিছু চারা তুলে সেখানে রাস্তা তৈরির কাজ করা হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এ ঘটনায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে আরও গুরুতর অভিযোগ হলো—বন বিভাগের একজন বিট কর্মকর্তাকে এক লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার বিনিময়ে চারা তুলে রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। তবে ঘুষ লেনদেনের এই অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, বন বিভাগের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও প্রভাবশালী বা বিত্তবান ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কেন একই ধরনের কঠোরতা দেখা যায় না?
অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে হাসপাতাল মালিক সাইফুল ইসলাম মোল্লা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেই চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। সাংবাদিকদের দাবি, বন বিভাগের জমিতে রাস্তা নির্মাণ ও গাছের চারা অপসারণের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতেই তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।
এদিকে, মনিপুর বিটের দায়িত্বে থাকা বিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান এবং তাঁর সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা বনপ্রহরী মাসুমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বন বিভাগের জমিতে চারা অপসারণ ও রাস্তা নির্মাণের অভিযোগের বিষয়ে তারা কী ব্যবস্থা নিয়েছেন, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে বন বিভাগের জমিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা এবং ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ থাকলে সেটিও তদন্তের আওতায় আনা উচিত।