রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মেঘনা নদীতে নৌকায় নিয়ে হাত-পা বেঁধে এক গৃহবধূকে ধর্ষণ ও মারধরের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে রায়পুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন—ট্রলার মাঝি আবদুর রহমান (৩৫) ও তার ভাই মহিম (২৫)। তারা দুজনই রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের চরঘাসিয়া গ্রামের মিঝি বাড়ির ইসমাইল মিজির ছেলে।
ভুক্তভোগী নারী জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে মুন্সীগঞ্জের এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে হয় এবং তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। মেঘনার চরে সয়াবিন আনা-নেওয়ার সুবাদে ট্রলার মাঝি আবদুর রহমানের সঙ্গে তার পরিচয় ও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে আবদুর রহমান তাকে নদীতে ঘোরানোর প্রস্তাব দেন এবং বিয়ের আশ্বাস দিয়ে গত সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে তাকে চরে নিয়ে যান। পরে মেঘনা নদীর মাঝখানে নৌকায় তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়।
এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎsaves শব্দে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আবদুর রহমানকে আটক করে স্থানীয় ইউপি সদস্য হানিফ দেওয়ানের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে বিয়ের বিষয়ে সালিশের সময় আবদুর রহমান ও তার ভাই মহিম ওই গৃহবধূকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রায়পুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন।
স্থানীয়ভাবে বিচার না পেয়ে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে গত বুধবার (১৯ আগস্ট) রায়পুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওইদিন বিকেলে সদর হাসপাতালে তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয় এবং চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি জবানবন্দি দেন।
এ বিষয়ে রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, বিয়ের আশ্বাসে চরে ঘুরতে নিয়ে নৌকায় ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।