পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী এবং ব্রিটিশ চলচ্চিত্র নির্মাতা জেমিমা গোল্ডস্মিথ সম্প্রতি দ্বিতীয়বারের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। কোটিপতি অর্থ ব্যবস্থাপক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ক্যামেরন ও’রেইলির সঙ্গে তার বিয়ের খবরটি জেমাইমার পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সম্প্রতি এক জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই নতুন দম্পতি তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন। চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের প্রতি দুজনের অভিন্ন আগ্রহের কারণেই মূলত তাদের মধ্যে পরিচয়ের সূত্রপাত ঘটে এবং পরবর্তীতে সম্পর্ক পরিণয়ে রূপ নেয়।
৫২ বছর বয়সী জেমিমা গোল্ডস্মিথ এর আগে পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ও পরবর্তীতে রাজনীতিক হয়ে ওঠা ইমরান খানের সঙ্গে প্রায় দীর্ঘ নয় বছর সংসার করেছিলেন। ২০০৪ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে সেই সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক ইতি ঘটেছিল। ইমরান ও জেমিমার সংসারে সুলায়মান খান ও কাসিম খান নামের দুই পুত্রসন্তান রয়েছে। বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির কারাগারে বন্দि থাকা তাদের বাবার শারীরিক অবস্থা ও নিরাপত্তা নিয়ে এই দুই তরুণ বেশ কিছুদিন ধরে সরবভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
জেমাইমার ভাই বেন গোল্ডস্মিথের স্ত্রী জেমিমা জোন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করে এই নবদম্পতিকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। স্বামীর সঙ্গে তোলা ওই ছবির ক্যাপশনে তিনি জেমিমা ও ক্যামেরনের বিয়ে উদযাপনের বিষয়টি উল্লেখ করে একটি আনন্দঘন দিনের অনুভূতির কথা প্রকাশ করেন। নতুন জীবনের এই শুরুতে বিশ্বজুড়ে তাদের অনুসারী ও শুভানুধ্যায়ীরাও বিভিন্ন মাধ্যমে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন। পেশাগত জীবনে জেমিমা ‘ইনস্টিংক্ট প্রোডাকশন্স’ নামক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত এবং তিনি বেশ কিছু চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান সফলভাবে পরিচালনা ও প্রযোজনা করেছেন।
বিয়ের আনন্দ সংবাদ ছাপিয়ে সম্প্রতি পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাবেক স্বামী ইমরান খানের কারাবাস নিয়ে জেমিমা গোল্ডস্মিথ বেশ জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে, ইমরান খানের বর্তমান পরিস্থিতি কেবল একটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং এটি বর্তমানে একটি গুরুতর মানবাধিকার সংকটে রূপ নিয়েছে। যুক্তরাজ্যে ইমরান খানের দীর্ঘদিনের পড়াশোনা, কাউন্টি ক্রিকেট খেলা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দাতব্য কাজের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্বপ্রাপ্ত দুই ছেলের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
জেমিমা অভিযোগ করেছেন যে, হাজার হাজার মাইল দূর থেকে তাদের সন্তানদের বাবার স্বাস্থ্যের অবনতি দেখতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি সরকারি মহলের পক্ষ থেকেও তাদের নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার পাশাপাশি সাবেক স্বামীর মুক্তি ও মানবাধিকারের এই সংকটেও জেমিমা সমানভাবে নিজের জোরালো কণ্ঠস্বর অব্যাহত রেখেছেন।