বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:০০ পূর্বাহ্ন
Title :
পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে ইবি ছাত্র ইউনিয়নের সংহতি ও পুলিশি হামলার নিন্দা সৈয়দপুরে প্রভাবশালী ২ ব্যক্তির বিরুদ্ধে শতবর্ষী ডাস্টবিন ভাঙার অভিযোগ, শতাধিক পরিবার চরম ভোগান্তিতে বান্দরবানে বেতছড়া বাজার যুব সংঘকে সেনাবাহিনীর ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান নাটোরে বিশেষ অভিযান: ২৩ কিশোর গ্যাং সদস্য আটক সৈয়দপুরে প্রথম চাষ হলো পুষ্টিসমৃদ্ধ ভিয়েতনামী ‘ব্ল্যাক রাইস’, দেখতে ভিড় সৈয়দপুর জেলা বিএনপি সভাপতির ছবি ও নাম ব্যবহার করে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা রামগঞ্জে রেস্টহাউস ম্যানেজারের গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ৭০ হাজার টাকা লুট, থানায় অভিযোগ নাটোরে এইচএসসিতে শতভাগ ফেল করা ১৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে শোকজ রামগঞ্জে ১৮৩ পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক কারবারী রুবেল আটক সংগলশী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জিয়াউর রহমানের ভোট ও দোয়া প্রার্থনা

দুই কিডনি বিকল ও অন্ধত্বের পথে গাইবান্ধার লাজু, বেঁচে থাকার আকুতি সন্তানের টানে

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৪০ Time View
224

জাহিদ হাসান জীবন, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় দুই কিডনি অকেজো এবং এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে চরম মানবেতর জীবন পার করছেন শাহ শহিদ লাজু (৩৭) নামের এক ব্যক্তি। বর্তমানে তার অপর চোখ দিয়েও ঝাপসা দেখছেন তিনি। দীর্ঘমেয়াদি এই অসুস্থতার চিকিৎসায় সহায়-সম্পত্তি হারিয়ে তিনি এখন প্রায় নিঃস্ব।

উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সাতগিরি গ্রামের কলিম উদ্দিনের ছেলে লাজু। পরিবারে তাঁর স্ত্রী, দুই বছরের একটি কন্যাসন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মা রয়েছেন।

জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে রংপুরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় তার চোখে সমস্যা দেখা দেয়। পরবর্তীতে চিকিৎসকের কাছে গেলে এক চোখে দৃষ্টি হারানোর পাশাপাশি তার দুই কিডনিই নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। ব্যয়বহুল এই চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে একে একে সহায়-সম্পত্তি বিক্রি করে ফেলেন তিনি। বর্তমানে কেবল মাথা গোঁজার ভিটেমাটিটুকু অবশিষ্ট রয়েছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে লাজু বলেন, “আমার ছোট্ট ছেলের বয়স মাত্র দুই বছর। আমি কেবল আমার সন্তানের মুখটির পানে তাকিয়ে বাঁচতে চাই সমাজের সহানুভূতি নিয়ে। দেশের হৃদয়বান মানুষেরা যদি একটু সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন, তবে উন্নত চিকিৎসা নিয়ে আমি আবারও আমার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারব।”

লাজুর স্ত্রী নুরনাহার বেগম জানান, দীর্ঘ ১০ বছর সংসার করার পর তাদের কোলজুড়ে এই সন্তান আসে। স্বামীর জীবন বাঁচাতে গিয়ে তাদের যা কিছু ছিল, সবই ফুরিয়ে গেছে। এখন চিকিৎসার ব্যয় বহন করার সামর্থ্য তাঁদের নেই। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ছাড়া এই চরম দুর্দশা থেকে উত্তরণের কোনো উপায় দেখছেন না তিনি।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রানু মিয়া বলেন, “লাজুর পরিবারটি অত্যন্ত অসহায় ও দরিদ্র। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসার পেছনে অর্থ ব্যয় করতে গিয়ে তারা নিঃস্ব হয়ে গেছেন। সমাজের বিত্তবানরা যদি এগিয়ে আসেন, তবে তার জীবন বাঁচানো সম্ভব হতে পারে।”

বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার এই বিষয়ে বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও মানবিক। ক্যানসার কিংবা কিডনির মতো জটিল রোগের চিকিৎসায় এই পরিবারটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। তার সুচিকিৎসার জন্য সকলের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।”

এদিকে, লাজুর জীবন বাঁচাতে দেশের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের কাছে আর্থিক সহায়তার আকুতি জানিয়েছে তার পরিবার।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com