রাজধানীজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ কর্মকাণ্ড দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। এই ধারাবাহিক নিয়মিত অভিযراতের অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা দল যৌথভাবে সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করে। সম্প্রতি পরিচালিত এই অভিযানে শহরের বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে চার শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের এই জোরালো পদক্ষেপে অপরাধ চক্রগুলোর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ওই ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পরিচালিত অভিযানে মোট ৪৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপরাধ নির্মূলে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চৌকি বসানো এবং সন্দেহভাজন স্থানগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে তাদের আটকের পর সংশ্লিষ্ট থানায় তাদের বিরুদ্ধে মোট ৪৪টি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। নগরবাসীর নিরাপত্তা বিধানের স্বার্থে পুলিশের এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এই আটকের বিষয়ে বিস্তারিত গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাজধানীর আটটি অপরাধ বিভাগ এবং গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বিত টিম এই সফল অভিযান পরিচালনা করে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অপরাধীকে আটক করা হয়েছে মিরপুর বিভাগ থেকে, যা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতারই প্রতিফলন। এছাড়া রমনা, লালবাগ, ওয়ারী, মতিঝিল, তেজগাঁও, গুলশান, উত্তরা এবং গোয়েন্দা বিভাগেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে।
অভিযান চলাকালে অপরাধীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য, অস্ত্র এবং নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি রিভলবার, দুই রাউন্ড গুলি এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন অবৈধ সামগ্রী উদ্ধার করে। জব্দকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে এক কেজিরও বেশি গাঁজা, কয়েক হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, হেরোইন এবং বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় ইনজেকশন বা ট্যাবলেট। এছাড়া উদ্ধারকৃত পণ্যের পাশাপাশি অপরাধের শিকার হওয়া এক ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। বিভিন্ন থানায় দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তাদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। রাজধানীকে পুরোপুরি অপরাধমুক্ত এবং নিরাপদ রাখতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কঠোর আইনগত ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা হবে। সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় পুলিশ রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুদৃঢ় করতে বদ্ধপরিকর।