বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দাবিতে রাজধানী ঢাকা থেকে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি শুরু করেছে ১১ দলীয় ঐক্যজোট। সুনির্দিষ্ট ছয়টি দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আয়োজিত এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে সম্প্রতি সকাল সোয়া আটটার দিকে মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকা থেকে লংমার্চের গাড়ি বহরটি যাত্রা শুরু করে। এর আগে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল সাতটায় একই স্থানে একটি সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই রাজনৈতিক কর্মসূচির সূচনা করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয় এবং জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়া সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ ঐক্যজোটের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতারা। বক্তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জনরায়ের বাস্তবায়ন এবং লংমার্চ সফল করে তোলার জন্য সর্বস্তরের মানুষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।
জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তাদের এই আন্দোলনের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই মাসে সংঘটিত গণহত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের চলমান সংকট নিরসন। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, সর্বস্তরে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়ন এবং প্রশাসনের সংকীর্ণ দলীয়করণ স্থায়ীভাবে বন্ধেরও দাবি জানানো হয়েছে। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এই দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চের পুরো রুটে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পথসভা ও জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। এই যাত্রার প্রথম পর্বে নারায়ণঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজসংলগ্ন ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায় পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং পরবর্তীতে কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও মিরসরাইয়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে একটি বড় জনসভার মাধ্যমে এই দীর্ঘ লংমার্চ কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে বলে জোটের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।