বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সরবরাহে চরম সংকট বিরাজ করলেও নিয়মিতভাবে অতিরিক্ত বিল আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা না দিয়েও সাধারণ মানুষের পকেট কাটা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সম্প্রতি নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবার মান ও দুর্নীতির প্রতিবাদ জানিয়ে ‘সিফাত’ নামের এক তরুণ ভিডিও বার্তা দেওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার এবং থানায় হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াত আমির। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ওই তরুণের ভাষা বা মাধ্যম হয়তো ভিন্ন ছিল, কিন্তু সে যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছে, তা দেশের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের কথা। সরকারের এই ধরনের দমনপীড়নমূলক আচরণ বন্ধ না হলে দেশের ১৮ কোটি মানুষ এক হয়ে প্রতিবাদে ফেটে পড়বে বলে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সরকারকে অবিলম্বে সেই তরুণকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ এই নেতা বলেন, অতীতে দেশের ইতিহাসে নূর হোসেন, ইয়াসমিন কিংবা ডা. মিলনের মতো ব্যক্তিদের ওপর চালানো নিপীড়ন ও হত্যাকাণ্ড স্বৈরাচারী শাসকদের গদি উল্টে দিয়েছিল। বর্তমান প্রশাসন যদি সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত না নেয়, তবে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ যেকোনো সময় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। পচা শামুকেও পা কাটতে পারে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনকে সংযত হওয়ার পরামর্শ দেন।
জনগণের মৌলিক অধিকার আদায় এবং ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সম্প্রতি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি বিশেষ লংমার্চ কর্মসূচি শুরু করে ১১ দলীয় ঐক্যজোট। রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে এই লংমার্চের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়, যার নেতৃত্ব দেন জামায়াত আমির। দেশের ১৮ কোটি মানুষের নায্য অধিকার নিশ্চিত করার এই আন্দোলন সফল করতে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।