জাল জন্মসনদ ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের শিশু হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এক আইনজীবীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। প্রাপ্তবয়স্ক চার আসামিকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় শিশু সাজিয়ে অবৈধভাবে জামিন পাইয়ে দেওয়ার হীন উদ্দেশ্যে এই জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, আসামিদের বয়স কমানোর জন্য কেবল ভুয়া জন্মসনদ তৈরিই করা হয়নি, বরং আদালতের সংরক্ষিত অর্ডার শিটের মূল আদেশও পরবর্তীতে কাটাকাটি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, মামলার গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক নথিগুলো আদালত প্রাঙ্গণ থেকে রহস্যজনকভাবে গায়েব করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বিচারিক কার্যক্রমে এমন নগ্ন হস্তক্ষেপ ও জালিয়াতির বিষয়টি আদালতের নজরে আসার পরই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন গাইবান্ধা জেলা বারের একজন আইনজীবী, গোবিন্দগঞ্জ আদালতের জিআরও (জেনারেল রেজিস্ট্রেশন অফিসার) এবং এক মহুরি। আদালতের নথিপত্র নষ্ট করা এবং বিচার ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালানোয় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানাকে দ্রুত এই বিষয়ে মামলা রেকর্ড করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
আইনজীবীর মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে আদালতের সাথে এমন প্রতারণা বিচার ব্যবস্থার সততা ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ধরনের জালিয়াতি চক্রের মূল উৎপাটন করতে এবং বিচার বিভাগের পবিত্রতা রক্ষা করতে এই মামলার মাধ্যমে একটি কড়া বার্তা দেওয়া হলো। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে পুলিশি তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।