সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার সুরক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন যে তাদের জন্য তাঁর দপ্তরের দরজা সবসময় উন্মুক্ত রয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের জেএম সেন হল প্রাঙ্গণে শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক ধর্মমহাসম্মেলন ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে দেশের সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য এবং এ ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্যমূলক আচরণ করা হবে না।
অনুষ্ঠানে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী বৈধতা ও অন্তর্ভুক্তি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন যে বর্তমান প্রশাসন কেবল নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের একক সমর্থনে ক্ষমতায় আসেনি। দেশের মুসলিম, সনাতন, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সম্মিলিত ভোটের মাধ্যমেই এই গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়েছে। অতীতে সমাজে তৈরি হওয়া বিভিন্ন বিভেদ ও অনৈক্য রাতারাতি দূর করা সম্ভব না হলেও সঠিক নীতি ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার মাধ্যমে সরকার সেই দূরত্ব কমিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা ও সরকারি বরাদ্দের সমতা প্রসঙ্গে আমির খসরু জানান যে অতীতে যা দেখা যায়নি, বর্তমান প্রশাসন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে সমান নীতি অনুসরণ করছে। এখন থেকে মসজিদের পাশাপাশি মন্দিরগুলোতেও সমপরিমাণ সরকারি অনুদান প্রদান করা হচ্ছে এবং ইমামদের পাশাপাশি পুরোহিতদেরও সমানভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজনকে কোনো ধরনের মধ্যস্থতাকারী ছাড়া সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানিয়ে তিনি জানান যে তাদের যেকোনো সমস্যা আন্তরিকভাবে চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানের অন্যান্য পর্বে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতা এবং ধর্মীয় আলোচকরা উপস্থিত থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরেন। শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি চন্দন তালুকদারের সভাপতিত্বে এই আয়োজনে বিভিন্ন বিশেষ অতিথি ও সংবর্ধিত ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন। আলোচনা পর্ব শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করা হয় এবং বেতার ও টেলিভিশনের শিল্পীদের পরিবেশনায় এক আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।