নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুরের মনিপুর বিটের কাতলামারা এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমির একেবারে কাছ ঘেঁষে একটি চারতলা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। কোনো ধরনের সীমানা নির্ধারণ বা ডিমারকেশন ছাড়াই এই কাজ পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই এই অবৈধ নির্মাণকাজ চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার সোহেল নামক এক ব্যক্তি এই জমির মালিকানা দাবি করে দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে চারতলা ফাউন্ডেশন দিয়ে ভবনটি নির্মাণ করছেন। তবে তার কাছে বৈধ কাগজপত্র বা লিজের কোনো নিশ্চিত তথ্য স্থানীয় পর্যায়ে পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, ভবনটির দক্ষিণাংশের কিছু অংশ সংরক্ষিত বনভূমির ভেতরে চলে গেছে। যথাযথ জরিপ ও সীমানা নির্ধারণ না হলে সরকারি এই বনভূমি স্থায়ীভাবে দখল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, মনিপুর বিট অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে এই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে এক থেকে দুই লাখ টাকা লেনদেনের গুঞ্জন থাকলেও এর কোনো স্বাধীন প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে আসেনি। তবে বনভূমির সীমানা রক্ষায় বিট অফিসের তদারকি না থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বনভূমি নিয়ে কোনো ধরনের সংশয় থাকলে নির্মাণকাজ শুরুর আগেই মৌজা ম্যাপ পরীক্ষা ও সরেজমিন ডিমারকেশন করা বাধ্যতামূলক। যদি সরকারি জমিতে কোনো স্থাপনা গড়ে ওঠে, তবে তা তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত সোহেলের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে। দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে বনভূমির সীমানা নির্ধারণ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।