গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় দেখা দিয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট। গত ১০ দিন ধরে আবাসিক এলাকার হাজার হাজার চুলা জ্বলছে না। অন্যদিকে, সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা। সংকট এতটাই তীব্র যে, গ্যাস না পেয়ে জরুরি সেবা বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্স চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে রোগীর জীবন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালিয়াকৈর পৌরসভা, সফিপুর, চন্দ্রা ও মৌচাক এলাকায় গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। কালিয়াকৈর বাজারের বাসিন্দা হাসিনা বেগম জানান, সকাল থেকে গ্যাসের অপেক্ষায় থেকেও রান্নার উপায় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে। এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, উপজেলার ২৩টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে বর্তমানে ১৫টিই সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। চালু থাকা স্টেশনগুলোতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ৩০ থেকে ৭০ টাকার গ্যাস মিলছে, যা দিয়ে ৫-৭ কিলোমিটার পথও পাড়ি দেওয়া সম্ভব নয়। অ্যাম্বুলেন্স চালক সেলিম জানান, গুরুতর রোগী নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও পর্যাপ্ত গ্যাস পাননি তিনি, যা রোগীর জীবনের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
যানবাহন সংকটের কারণে সাধারণ যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া। পাশাপাশি, শিল্পাঞ্চল এলাকার কয়েকটি কারখানায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বড় ধরনের রপ্তানি ক্ষতি ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের মুখে পড়তে হতে পারে।
এ বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল) কালিয়াকৈর জোনাল অফিসের ব্যবস্থাপক জানান, জাতীয় গ্রিডে এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির কারণে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় মাত্র ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ গ্যাস পাওয়ায় আবাসিক ও যানবাহন খাতে সরবরাহ সীমিত করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি। দ্রুত এই জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।