শিক্ষা বোর্ডের আপিল ও সালিশ কমিটির অনুমোদন ছাড়া কোনো বেসরকারি কলেজের গভর্নিং বডি কোনো শিক্ষককে সরাসরি বরখাস্ত করতে পারবে না বলে স্পষ্ট রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দী ও বিচারপতি দিহিদার মাসুম কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ কিশোরগঞ্জের গচিহাটা কলেজের এক শিক্ষকের বরখাস্তের বৈধতা নিয়ে দায়ের করা রিট খারিজ করে এই নির্দেশনা প্রদান করেন। আদালত জানিয়েছেন, গভর্নিং বডি কেবল বরখাস্তের প্রস্তাব দিতে পারে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কেবল বোর্ডের আপিল ও সালিশ কমিটির হাতেই ন্যস্ত।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, টেলিফোনে বা মৌখিক নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যেকোনো তদন্ত কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে গভর্নিং বডির সভায় আনুষ্ঠানিক রেজুলেশন গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। কোনো প্রতিষ্ঠানের সভাপতির একক সিদ্ধান্ত বা মৌখিক নির্দেশ আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। রায়ে আরও বলা হয়, শিক্ষক বরখাস্তের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা আবশ্যক, যা না করলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে।
গচিহাটা কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবুল মনসুরকে পুনর্বহালের বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্তকে আইনসম্মত বলে রায় দিয়েছেন আদালত। তবে ওই শিক্ষক ইতিমধ্যে অবসরের বয়সসীমা অতিক্রম করায় তাকে স্বপদে ফিরিয়ে আনার সুযোগ নেই বলে জানায় আদালত। এর পরিবর্তে, অবসরের বয়স পর্যন্ত তার প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতা, চাকরিসংক্রান্ত যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা এবং পেনশন পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।