জাহাঙ্গীর আলম — বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম নগরের ভিড় কমাতে এবং দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর থেকে মালামাল জোরদারভাবে পরিবহন চালানোর লক্ষ্য নিয়ে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে একাধিক সড়ক নির্মাণ ও সম্প্রসারণ করা হয়েছিল। তবে অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে সেই বিনিয়োগের সুফল ঝরে পড়ছে, সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন।
নিরীক্ষণে দেখা গেছে চার লেনের আধুনিক সড়কগুলো এখন ভারী যানবাহনের স্থায়ী পার্কিংয়ের মতো দেখা যায়। নিমতলা থেকে বারেক বিল্ডিং ও অলংকার মোড় হয়ে পোর্ট কানেক্টিং রোডের দুই পাশে দিন-রাত সারিবদ্ধভাবে শতাধিক ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও প্রাইম মুভার দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে চার লেনের এই সড়কের অনেক অংশ দখল হয়ে কোথাও দুই লেন, কোথাও এক লেনেই যান চলাচল হচ্ছে।
একই চিত্র দেখা যায় পতেঙ্গা-ফৌজদারহাট আউটার রিং রোড, সিবিসি রোড ও বিমানবন্দর সড়কে। বন্দরকেন্দ্রিক এবং শহরের প্রধান প্রবেশপথগুলোতে ২৪ ঘণ্টাই জট—and দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে গিয়েছে।
ভারি যানচালকরা বলছেন, বন্দরনগরে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান রাখার জন্য পর্যাপ্ত নির্দিষ্ট টার্মিনাল বা হোল্ডিং ইয়ার্ড নেই। তাই বাধ্য হয়ে তারা প্রধান সড়কের উপরই গাড়ি দাঁড় করাচ্ছেন।
নগরবাসী ও ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, প্রশাসন সময়ে সময়ে অভিযানে কিছু স্থান খালি করলেও তা স্থায়ী রাখার কোনো ব্যাবস্থা নেই; কয়েক দিনের মধ্যেই পূর্বাবস্থায় ফিরে যায় সবকিছু। নিয়মিত নজরদারি ও কড়া পদক্ষেপ না নেওয়ায় একই সমস্যা বারবার দেখা যাচ্ছে।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শুধু সড়ক প্রশস্ত করলেই যানজট কমবে না। কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা, হকার পুনর্বাসন এবং দ্রুত নির্দিষ্ট ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের মতো ব্যবস্থা না নিলে এই সংকট মিটবে না।
মেয়র, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন — ডা. শাহাদাত হোসেন:
“অবৈধ পার্কিংয়ের কোনো সুযোগ দেয়া হবে না। শৃঙ্খলা ভাঙলে শোকজ ও জরিমানা করা হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি নির্ধারিত টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে।”
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) — হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া:
“রাস্তায় ভারী যানবাহন দাঁড় করানো সম্পূর্ণ বেআইনি। তবুও পর্যাপ্ত পার্কিং না থাকাটা একটি বাস্তব সমস্যা। দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে সিডিএ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে টার্মিনাল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
