বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন

আমার সিদ্ধান্তেই বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যায়নি দল: আসিফ নজরুল

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১২ Time View
16

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল কেন ভারতে খেলতে যায়নি, তা নিয়ে তৈরি হওয়া তদন্ত প্রতিবেদন এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আসিফ নজরুল নিজেই জানিয়েছেন যে, তার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ ও সিদ্ধান্তক্রমেই জাতীয় দল সেবার ভারতে খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে বিরত ছিল। একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও এই তথ্য উঠে এসেছে যে, তৎকালীন মন্ত্রণালয়ের সেই নীতির সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিবিও একমত পোষণ করেছিল এবং পূর্ণ সমর্থন দিয়েছিল।

এই ঘটনার মূল প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল উগ্রপন্থীদের চাপের মুখে আইপিএল থেকে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে অপমানজনকভাবে বাদ দেওয়ার পর। এই ঘটনার ঠিক পরপরই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয় যে, ভারতে অবস্থানকালে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সফরকারী সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি, দেশের আত্মমর্যাদা এবং সার্বিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সরকারের নীতিনির্ধারক মহল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করে, যা পরবর্তীতে দাপ্তরিকভাবে সিদ্ধান্ত আকারে রূপ নেয়।

তৎকালীন সরকারের এই অবস্থান যে অমূলক ছিল না, তার প্রমাণ মিলেছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির প্রাথমিক প্রতিবেদনেই। ওই প্রতিবেদনে ভারতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, যার মধ্যে মুস্তাফিজের অন্তর্ভুক্তি এবং বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক পরিবেশের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমেও এসব তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর সরকারের অবস্থান আরও শক্ত হয় এবং বাংলাদেশ বিকল্প কোনো ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজনের জোরালো দাবি জানায়।

বিকল্প ভেন্যুতে খেলার অনুমতি পেতে বিভিন্ন মহলে কূটনৈতিক ও ক্রীড়াসুলভ প্রচেষ্টা চালানো হলেও আইসিসির ওপর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রভাবের কারণে শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি। এছাড়া, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকেও বাংলাদেশ দলকে টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার বিষয়ে কার্যকর কোনো নিশ্চয়তা বা যোগাযোগ করা হয়নি। সব দিক বিবেচনা করে দেশের সম্মানরক্ষা এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে বলে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, বিসিবির কূটনৈতিক পদক্ষেপে তা সফলভাবে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়। এ প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে আসিফ নজরুল সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় উল্লেখ করেছেন যে, আত্মসম্মান ও সমমর্যাদার জায়গায় কোনো আপস করা হয়নি। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে সবসময় অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে দেশের মর্যাদা রক্ষা করাই ছিল তৎকালীন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com