রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকা থেকে কাপড়ের চালানের আড়ালে লুকিয়ে আনা প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পক্ষ থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়। শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে নিট ফেব্রিকস বা কাপড়ের রোল ঘোষণা দিয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে এই নিষিদ্ধ ও উচ্চমূল্যের পণ্যগুলো দেশে আনা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিমানবন্দরের কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, হংকং থেকে বিশেষ একটি ফ্লাইটে মোট ২০টি প্যাকেজে ৮৯৫ কেজি ওজনের এই চালানটি ঢাকায় এসে পৌঁছায়। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘থিনিয়াস এপিরিয়ালস লিমিটেড’ এর নাম নথিভুক্ত করা হলেও কাস্টমসের প্রাথমিক পরীক্ষায় ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে বাস্তব চালানের মধ্যে বিশাল অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এয়ার কার্গো রেকর্ডে পণ্যের বিবরণীতে নিট ফেব্রিকস এবং পি কভার জি রোল সিআরটি উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে এর ভেতরে পাওয়া যায় ১ হাজার ৫৫৫টি চোরাই ও আমদানিনির্ধারিত মোবাইল ফোন।
উদ্ধার হওয়া এই বিশাল মোবাইল চালানের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের আধুনিক ও পুরোনো ডিভাইস। এর মধ্যে ৪৫০টি রেডমি ১৪ সি, ১৫০টি রেডমি ১৫ সি এবং পুরোনো আইফোনসহ বিভিন্ন চীনা ব্র্যাণ্ডের আরও ১ হাজার ৫৫টি হ্যান্ডসেট রয়েছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টমস কর্মকর্তারা চালানটি আটক করে পরীক্ষা চালান এবং তখনই এই মিথ্যা ঘোষণার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উন্মোচিত হয়।
এনবিআর জানিয়েছে, ঘোষিত পণ্যের আড়ালে অবৈধভাবে মোবাইল ফোন আমদানির মাধ্যমে বড় অঙ্কের শুল্ক-কর ফাঁকি দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। বর্তমানে মোবাইল ফোনগুলোর সুনির্দিষ্ট মডেল, আইএমইআই নম্বর, যন্ত্রাংশগুলো নতুন নাকি ব্যবহৃত—তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। একইসঙ্গে প্রকৃত বাজারমূল্য এবং প্রযোজ্য শুল্ক-কর নির্ধারণের পর এই ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।