সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট’ বা সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধন সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদের বৈঠকে এই সংশোধনী বিলটি উত্থাপন করেন। বিলটি পাস হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পুরনো সম্পত্তি আইনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হলো, যা দীর্ঘদিনের একটি আইনি ব্যবস্থার রূপান্তর ঘটিয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদীয় এই অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়।
এই নতুন সংশোধিত আইনের ফলে দেশের পরিবারগুলোর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় এক যুগান্তকারী সুরক্ষা যুক্ত হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, বাবা-মা যদি তাদের জীবদ্দশায় সন্তানদের নামে স্থাবর সম্পত্তি বা বসতভিটা দান বা হস্তান্তর করেন, তবুও তারা যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন ওই সম্পত্তির ভোগদখল নিজের কাছে রাখতে পারবেন। ১৮৮২ সালের ঔপনিবেশিক আমলের এই আইনের আধুনিকায়নকে বাবা-মায়ের অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা।
সংসদে বিল পাস হওয়ার প্রক্রিয়ার সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্ন দৃশ্যও দেখা গেছে। আইন পাস হওয়ার কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন। বিরোধী পক্ষের এই অনুপস্থিতির মধ্যেই বিলটি নিয়ে আলোচনা ও কণ্ঠভোট সম্পন্ন হয়। তবে বিরোধীদের প্রতিবাদ সত্ত্বেও সরকারি দলের সদস্যরা প্রবীণ পিতা-মাতার আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার এই উদ্যোগকে সম্পূর্ণ সাধুবাদ জানান।
আইন পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান দেশের পারিবারিক আইন এবং মুসলিম শরিয়াহর বিধান নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তিনি নিজের ব্যক্তিগত উদাহরণ টেনে ইসলামি শরিয়াহ আইন ও ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যায়ের মধ্যকার আইনি প্রক্রিয়াগুলো স্পষ্ট করেন। মন্ত্রী জানান, শরিয়াহ অনুযায়ী মৌখিকভাবে তালাক উচ্চারণের বিধান থাকলেও ১৯৬১ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়ায় তালাক কার্যকর করতে হলে নির্দিষ্ট সালিশি পরিষদের নিয়ম মেনে চলতে হয়।
আইনমন্ত্রী আরও ব্যাখ্যা করেন যে, ১৯৬১ সালের আইনি বিধান অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি তালাক দিতে চাইলে তাকে স্থানীয় আরবিট্রেশন কাউন্সিলের কাছে আবশ্যিকভাবে নোটিশ পাঠাতে হয়। এরপর ওই কাউন্সিল উভয় পক্ষকে নোটিশ দিয়ে তলব করে এবং তাদের মধ্যে সমঝোতা বা সুরাহা করার জন্য নব্বই দিন পর্যন্ত সময় নেয়। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি পারস্পরিক মীমাংসা ব্যর্থ হয়, তবেই কেবল আইনগতভাবে তালাক সম্পূর্ণ কার্যকর বলে গণ্য হয়।