রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন

বুয়েট ছাত্র সানি হত্যা: মামলার তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে শুনানি আজ

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ০ Time View
1

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী তারিকুজ্জামান সানি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। দোহারের মৈনট ঘাটে পদ্মা নদীতে সানির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় করা এই হত্যা মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ায় বিচারিক প্রক্রিয়ায় কিছুটা দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে। এর আগে নির্ধারিত সময়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত নতুন এই দিন ধার্য করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না পড়ায় ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, কুতুবপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম এই হত্যা মামলাটি তদন্ত করছেন। এর আগে গত ৩ আগস্ট প্রতিবেদন দাখিলের নির্দিষ্ট দিন থাকলেও তদন্ত কর্মকর্তা তা আদালতে পেশ করতে পারেননি। এরপর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবর রহমান প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন নির্ধারণ করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে দীর্ঘ চার বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা না দেওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

আলোচিত এই হত্যা মামলায় মোট ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামির তালিকায় রয়েছেন শরীফুল হোসেন, শাকিল আহম্মেদ, সেজান আহম্মেদ, মো. রুবেল, মো. সজীব, মো. নুরুজ্জামান, মো. নাসির, মো. মারুফ, মো. আশরাফুল আলম, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন লিটন, মো. নোমান, মো. জাহিদ, এটিএম শাহরিয়ার মোমিন, মো. মারুফুল হক ও রোকনুজ্জামান ওরফে জিতু। মামলার বিচারিক নথিপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বর্তমানে আদালতের জামিনে মুক্ত রয়েছেন। ফলে মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিচার প্রক্রিয়া কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন সানির পরিবার ও আইনজীবীরা।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ২০২২ সালের ১৪ জুলাই, যখন ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি তরুণ দল রাজধানীর নিকটবর্তী দোহার উপজেলার মৈনট ঘাটে পদ্মা নদীতে বেড়াতে যায়। ওই দিন সন্ধ্যার দিকে আকস্মিকভাবে বুয়েট শিক্ষার্থী তারিকুজ্জামান সানি নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে দ্রুত দোহার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। নিখোঁজ হওয়ার পরদিন ১৫ জুলাই সকালে নদী থেকে সানির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছিল।

প্রিয় ভাই হারানোর এই ঘটনায় সানির বড় ভাই হাসাদুজ্জামান বাদী হয়ে দোহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৫ জনকে সরাসরি আসামি করা হয় এবং শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে বলে জানানো হয়। তবে তদন্তের নামে দীর্ঘ সময় ক্ষেপণ হওয়ায় মামলার ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত ন্যায়বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে। আজকের শুনানিতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ে কি না এবং আদালত পরবর্তী কী নির্দেশনা দেন, সেটির ওপর নির্ভর করছে মামলার ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com