বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার ফার্মগেটে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এক জাঁকজমকপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই স্লোগানটিকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অত্যন্ত গুরুত্ববাহী এই রাজনৈতিক সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। অনুষ্ঠানটি সামগ্রিকভাবে পরিচালনা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। সভায় দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমন্ত্রিত বরেণ্য গুণীজন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। বক্তারা সকলে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এই আলোচনা সভাটি দলের নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।
আলোচনা সভার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর উদ্যোগে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক ও গীতিকার ইথুন বাবুর সুনিপুণ পরিচালনায় এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশের একদল নামী ও খ্যাতিমান শিল্পী তাদের পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সাজ্জাদ হুসাইন পলাশ, মৌসুমী চৌধুরী, পরান আহসান, আকলিমা মুক্তা, গামছা পলাশসহ আরও অনেকে। তাঁদের পরিবেশিত দেশাত্মবোধক ও আধুনিক গান উপস্থিত শ্রোতাদের মাঝে গভীর আনন্দের খোরাক জোগায় এবং অনুষ্ঠানস্থলকে মুখরিত করে তোলে।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান কোনো ভিআইপি গ্যালারি বা মঞ্চে না বসে সাধারণ দর্শক সারিতে গিয়ে আসন গ্রহণ করেন। তিনি দলের অন্যান্য নেতাকর্মী ও সাধারণ দর্শকদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে বসে এই বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সহজ ও অমায়িক উপস্থিতি অনুষ্ঠানটির আমেজকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং উপস্থিত সকলের মধ্যে দারুণ উল্লাস সৃষ্টি করে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে আয়োজক ও শিল্পীরা দেশের শীর্ষ নেতার এমন সরাসরি উৎসাহ প্রদানে সন্তোষ প্রকাশ করেন।