ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারপন্থী বাহিনী এবং ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে একদিনের ব্যবধানে ১৪১ জন যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন। সম্প্রতি তায়েজ ও হোদাইদা প্রদেশ এবং লোহিত সাগর উপকূলীয় অঞ্চলে হঠাৎ করেই লড়াইয়ের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় এই বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সামরিক সূত্র জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিতে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই শুরু হয়, যা ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে।
সৌদি আরব সমর্থিত সরকারি বাহিনীর দুই সামরিক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, তীব্র এই লড়াইয়ের সময় সরকারি বাহিনীর অন্তত ৮৪ জন সেনা নিহত হয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশ তীব্র রকেট হামলার শিকার হয়েছিলেন। অন্যদিকে, হুথিদের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে যে একই সময়ে তাদের পক্ষের অন্তত ৫৭ জন বিদ্রোহী যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তারা হোদাইদার দক্ষিণে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হাইস জেলার নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহীদের কাছ থেকে সফলভাবে পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী আল-জারাহি জেলাতেও পাল্টা অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন হুথি যোদ্ধাকে বন্দি করার দাবি জানিয়েছে তারা।
উল্লেখ্য, এর আগে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইয়েমেনের সংঘাত কিছুটা স্তিমিত থাকলেও সম্প্রতি সেই আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ বাব-এল-মানদেব প্রণালির দিকে হুথিরা বড় ধরনের অভিযান চালানোর পর সরকারি বাহিনী বিমান হামলা জোরদার করে। রাজধানী সানা ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এই নতুন দফার সহিংসতায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে এবং অসংখ্য মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক সমন্বয়কারী দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, তায়েজ অঞ্চলে লড়াই হঠাৎ তীব্র আকার ধারণ করায় মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে প্রায় ১ হাজার ৮০০ পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করে সরকারকে হটিয়ে দেওয়ার পর থেকেই ইয়েমেনে এই বিধ্বংসী গৃহযুদ্ধ চলমান রয়েছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে পরবর্তী বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল।