সরকার যদি কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তবে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী চলমান লংমার্চের দাবি ছয়টি থেকে কমিয়ে এক দফায় রূপ নেওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সম্প্রতি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে লংমার্চ কর্মসূচি শুরুর প্রাক্কালে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, হাজারো বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করেই তাদের এই লংমার্চ নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাবে এবং জনগণের অধিকার আদায়ে কোনো আপস করা হবে না।
গতকালের ওই উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তৃতাকালে নাহিদ ইসলাম বিগত জুলাই মাসের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে বলেন যে, তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের পতনের জন্য দেশের সর্বস্তরের মানুষ যেভাবে ঢাকায় লংমার্চ সফল করেছিল, ঠিক তেমনি বর্তমান সময়ে নতুন করে কেউ যাতে স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার সুযোগ না পায় তা নিশ্চিত করতেই এই নতুন লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই লংমার্চ কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি দেশের সাধারণ মানুষের ওপর ভর করা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসবাদ এবং মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে একটি কঠোর সামাজিক ও রাজনৈতিক হুংকার।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে এই রাজনৈতিক নেতা অভিযোগ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট চক্র তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়নোর ষড়যন্ত্র করছে এবং জনগণের ৭০ শতাংশের গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তাই সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রাকে সহজ করতে এবং এসব অন্যায় সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনসাধারণকে এই লংমার্চে দলে দলে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার, জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে দলীয়করণ বন্ধ করার সুনির্দিষ্ট ছয়টি দাবি সামনে রেখে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে এই লংমার্চ পরিচালিত হচ্ছে। রাজধানী ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রাপথে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে এক বিশাল সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে এই লংমার্চের কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হবে।