লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐতিহাসিক এক চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলভাণ্ডার, যেখানে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে, তার ওপর ওয়াশিংটন সরাসরি প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টিকে বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম তেল চুক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের এই নতুন নীতিকে ‘ডনরো ডকট্রিন’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন, যা মূলত পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্যকে সুসংহত করার একটি প্রয়াস।
এই চুক্তির কাঠামোটি সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বের আদলে সাজানো হয়েছে, যেখানে মার্কিন কোম্পানিগুলোর সরাসরি মালিকানা বা ইকুইটি থাকবে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র সাশ্রয়ী মূল্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পাওয়ার নিশ্চয়তা পাবে। পেন্টাগনের ‘অফিস অব স্ট্র্যাটেজিক ক্যাপিটাল’-এর তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানানো হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই উদ্যোগকে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতির পুনর্গঠন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে মাইলফলক বলে উল্লেখ করেছেন।
চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার পথে থাকলেও এর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো কিছু ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের সমঝোতার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াটি এগিয়ে চলছে। যদিও এটি এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানো নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে, তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন যে এটি কেবল সময়ের ব্যাপার। উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগসহ বিভিন্ন আইনি জটিলতার আবহে এই বড় আকারের অর্থনৈতিক পদক্ষেপটি গ্রহণ করা হলো।