জাহাঙ্গীর আলম বিশেষ প্রতিনিধি
দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে মিরসরাই উপজেলার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র বারইয়ারহাট বাজারে চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য দৈনন্দিন সংসার চালানো দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। চাল, ডাল, তেলসহ প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বেশি থাকায় মাস শেষে আয়ের সাথে ব্যয়ের হিসাব মেলাতে পারছেন না অনেকে।
দিনমজুর বা নিম্ন আয়ের মানুষেরা কষ্টের কথা প্রকাশ করতে পারলেও, স্বল্প আয়ের চাকরিজীবী ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সামাজিক মর্যাদার কথা ভেবে নিরবে এই আর্থিক সংকট সহ্য করছেন।
শুক্রবার (সরেজমিন) বারইয়ারহাট বাজার ঘুরে দেখা যায়, দোকানে দোকানে পণ্যের দামে তারতম্য রয়েছে। বাজারে ডিম, ডাল, পেঁয়াজ ও আলুসহ অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম চড়া। মানভেদে দেশি ও আমদানীকৃত রসুন ৯০ থেকে ১৩০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৬০ টাকা, আলু ২৫ টাকা এবং চিনি ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি জিরা, গোলমরিচ ও এলাচের মতো মশলার বাজারও বেশ চড়া। এছাড়া হাঁস ও ফার্মের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৬০ টাকায়।
সবজির বাজারেও স্বস্তির কোনো দেখা মেলেনি। প্রতি কেজি শিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, ফুলকপি ১৫০ টাকা, মূলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, কচুর লতি ৭০ টাকা, লালশাক ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা এবং শসা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছ ও মাংসের বাজারেও একই চিত্র বিরাজ করছে। তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং চিংড়ি ৮৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে ছোট আকারের এক কেজি ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা, কক ৩৫০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা কেজিতে অপরিবর্তিত রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকায় তাদেরও চড়া দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে ক্রেতাদের সাথে প্রায়ই তাদের বাকবিতণ্ডা হচ্ছে এবং বিক্রিও কমে গেছে।
বাজার করতে আসা সাধারণ ক্রেতারা চরম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, নিত্যদিনের বাজার খরচ মেলাতেই তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। সাধারণ ভোক্তাদের দাবি, অবিলম্বে বারইয়ারহাট বাজারে নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা হোক এবং অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক।