নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুরে বনভূমি রক্ষার দায়িত্বে থাকা বন কর্মকর্তাদের একটি অংশের বিরুদ্ধে সরকারি বনসম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগসাজশ এবং বনভূমি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের স্বার্থে ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তালিকায় মাঠপর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামও সামনে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, মনিপুর বিটের বিট কর্মকর্তা মান্নান এবং ভবানীপুর বিট অফিসের বিট কর্মকর্তা নাসির আহমেদসহ বন বিভাগের আরও কয়েকজন সদস্য বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং সরকারি তদন্তের পূর্ণাঙ্গ নথি যাচাই করা জরুরি।
এক কোটি টাকার অভিযোগ
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে—একটি শিল্পগোষ্ঠীর কাছ থেকে বিপুল অর্থের বিনিময়ে প্রায় এক একর বনভূমি কারখানার ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। অভিযোগের পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকা।
এ ধরনের অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু সরকারি সম্পত্তির অপব্যবহার নয়, বন সংরক্ষণ আইন ও সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও গুরুতর অনিয়মের বিষয় হতে পারে।
প্রশ্ন উঠছে—কার অনুমোদনে বনভূমি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল? জমিটির শ্রেণি কী? কোনো সরকারি বন্দোবস্ত বা বৈধ অনুমোদন ছিল কি না? আর কথিত অর্থ লেনদেনের কোনো আর্থিক বা নথিগত প্রমাণ রয়েছে কি না?
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
মনিপুর ও ভবানীপুর বিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়েও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট বিট অফিসের নথি, বনভূমির রেকর্ড, পরিদর্শন প্রতিবেদন, অনুমোদনপত্র এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
শুধু একজন বা দুজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। বনভূমি ব্যবস্থাপনায় যদি কোনো সংঘবদ্ধ অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।