রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন
Title :
দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করুন: ইউএনওদের প্রধানমন্ত্রী আর্জেন্টিনার পরবর্তী কোচ: প্ল্যান এ, বি, সি- সব পরিকল্পনাতেই স্কালোনি ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের শিবচরে দুই বাসের সংঘর্ষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেবে জামায়াত শেখ হাসিনার পতনের পর সরকারবিহীন তিন দিন কী ঘটেছিল ইউএনওদের দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর এসএসসির ফল খারাপ হলে খাতা চ্যালেঞ্জ, আবেদন শুরু ১১ আগস্ট যারা মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করার জন্য জুলাইকে ব্যবহার করেন তারা ধান্ধাবাজ পাঁচ দিনের সফরে দক্ষিণ সুদান ও আবেই গেলেন সেনাপ্রধান নারীর বুক অনাবৃত করে ফোনে ধারণ করছেন যুবদলকর্মী, ভিডিও ভাইরাল

সাংবাদিকদের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছে পাকিস্তান

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৪ Time View
19

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বিদেশি সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের চলাচলে কড়াকড়ি; মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিসর আরও সংকুচিত হচ্ছে

পাকিস্তানে দেশি ও বিদেশি গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর কঠোর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন বাড়ছে বলে অভিযোগ তুলেছে মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় সাংবাদিকরা। তাদের দাবি, এসব পদক্ষেপ দেশটিতে স্বাধীন সাংবাদিকতার অবশিষ্ট পরিসরও সংকুচিত করবে।

নিউইয়র্ক টাইমস স্থানীয় সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বরাতে জানিয়েছে, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের পথ সীমিত করতে সরকার নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করেছে। এর আওতায় বিদেশি সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের পাকিস্তানের তিনটি প্রধান শহরের বাইরে যেতে হলে সরকারি অনুমতি নিতে হবে।

*কাশ্মীরে প্রতিবেদন প্রকাশের পর কড়াকড়ি

সম্প্রতি পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের নির্বাচন নিয়ে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বাড়ার পর নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়। অঞ্চলটিতে অধিক রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে গত জুন থেকে আন্দোলন চলছে।

দেশটির একটি শীর্ষ মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংবাদ সংগ্রহে সরকারি অনুমতির বাধ্যবাধকতা সাংবাদিকদের জন্য ভীতিকর বার্তা বহন করে। বিশেষ করে কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকরা বাড়তি চাপের মুখে পড়েছেন।

*সাংবাদিক আটক ও আদালতে তলব

নিউইয়র্কভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) জানিয়েছে, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে কর্মরত দুই স্বাধীন সাংবাদিককে গত ১ আগস্ট আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ছাড়া কয়েকজন সাংবাদিক জানিয়েছেন, ‘ভুয়া ও মিথ্যা তথ্য’ প্রচারের অভিযোগে তাদের আদালতে তলব করা হয়েছে। সর্বশেষ আল জাজিরার হয়ে কাজ করা এক স্থানীয় সাংবাদিকের কাশ্মীর নির্বাচনসংক্রান্ত প্রতিবেদনেরও সমালোচনা করেছে পাকিস্তান সরকার।

*বিদেশি সাংবাদিকদের চলাচলে আরও সীমাবদ্ধতা

সরকার বিদেশি সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের কাশ্মীর এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি ইসলামাবাদ, করাচি ও লাহোরের বাইরে যেকোনো স্থান থেকে সংবাদ সংগ্রহের জন্য আগাম সরকারি অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

*সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সিনিয়র সহযোগী এশিয়া পরিচালক প্যাট্রিসিয়া গোসম্যান বলেন, পাকিস্তানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার আগেই সীমিত ছিল। নতুন বিধিনিষেধ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলবে।

তিনি বলেন, বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের আগে থেকেই তিনটি শহরের বাইরে যেতে সরকারি অনুমতি লাগত এবং সেই অনুমতি পেতেও অনেক সময় মাসের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হতো।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে ১৮০ দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫৩তম।

*নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি

পাকিস্তান ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টস সরকারের প্রতি নতুন বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, সরকার যদি গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, তবে এসব নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে তুলে নেওয়া উচিত।

তবে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, নতুন নিয়মের মধ্যেও বিদেশি সংবাদমাধ্যম আগের মতোই কাজ করতে পারবে। এজন্য সাংবাদিকদের ভ্রমণ অনুমতিপত্র ইস্যু করতে নতুন ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিডল ইস্ট পলিসি কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো কামরান বুখারি বলেন, তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের এ ধরনের প্রচেষ্টা উল্টো ফল বয়ে আনবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রচলিত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আর কার্যকর নয়।

*সেন্সরশিপ ও দমন-পীড়নের অভিযোগ

সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের ওপর সেন্সরশিপ, ব্যাংক হিসাব জব্দ, সরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধ, সাংবাদিকদের চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং নির্বিচারে গ্রেপ্তারের ঘটনা বেড়েছে।

এ ছাড়া নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিনিধিরা কয়েকজন সাংবাদিককে সরকারপন্থী ইংরেজি ভাষার সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠায় উৎসাহিত করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পাকিস্তানের শীর্ষ সম্পাদকদের সংগঠন সরকারের বর্তমান নীতিকে ‘সংবাদমাধ্যমের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com