অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে মন্তব্য করেছেন যে, যারা মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করার জন্য জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন, তারা মূলত ধান্ধাবাজ অথবা অবিবেচক। তিনি স্পষ্ট করেন, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাইয়ের এই অভ্যুত্থান একে অপরের পরিপন্থী নয়, বরং জুলাইয়ের লড়াই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা ও মূল্যবোধ বাস্তবায়নের একটি সাহসী পদক্ষেপ।
আসিফ নজরুল তার পোস্টে ১৯৭১ সালের পরবর্তী সময়ের কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, অতীতে কিছু ব্যক্তির ভুল বা অপরাধের জন্য যেমন পুরো মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা যায় না, তেমনি জুলাইয়ের আন্দোলনে সংঘটিত বিচ্ছিন্ন কিছু অন্যায্য ঘটনার দোহাই দিয়ে জুলাই বিপ্লবের গৌরবকে প্রশ্নবিদ্ধ করাও অযৌক্তিক। তার মতে, একটি রাজনৈতিক পরিবার বা দলের স্বেচ্ছাচারিতাকে মুক্তিযুদ্ধের সমার্থক মনে করা ভুল।
তিনি আরও যোগ করেন যে, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান আধুনিক বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বীরত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই দুই অর্জনের মধ্যে কোনো বিরোধ খোঁজার চেষ্টা করা অত্যন্ত অন্যায় বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত দর্শন যারা অনুধাবন করতে পারেন, তাদের পক্ষে জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।