সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকটে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অঞ্চলটিতে প্রায় ১,২০০টি কারখানা থাকলেও পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপের অভাবে ডাইং, ওয়াশিং ও বয়লারের মতো গ্যাসনির্ভর সেকশনগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে পারছেন না উদ্যোক্তারা। বর্তমানে প্রয়োজনীয় চাপের অর্ধেকও গ্যাস মিলছে না বলে জানিয়েছেন কারখানা মালিকরা। এতে রপ্তানি আদেশের পণ্য সময়মতো শিপমেন্ট করা নিয়ে বড় ধরনের দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।
উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শ্রমিকদের ওপরও। এরই মধ্যে আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানায় ৫০০-এর বেশি শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে, যা পুরো শিল্পাঞ্চলের কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, গ্যাস সংকটকে পুঁজি করে অনেক মালিক অযৌক্তিকভাবে কর্মী ছাঁটাই করছেন। যদিও মালিকপক্ষের দাবি, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং কার্যাদেশের অভাবে তারা কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন।
শিল্প পুলিশ এবং গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের মতে, পরিস্থিতি উত্তরণে কাজ চলছে এবং আশা করা হচ্ছে খুব শীঘ্রই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। বিজিএমইএ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংকট মোকাবিলায় বিদেশি ক্রেতাদের সাথে কথা বলে শিপমেন্টের সময়সীমা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে পোশাক শিল্পের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।