অবসরপ্রাপ্ত মেজর জাহিদুল ইসলামের হত্যায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হককে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বিচারিক প্যানেলটি, যার নেতৃত্ব দিয়েছেন চেয়ারপারসন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, বুধবার (২৯ জুলাই) এ সংক্রান্ত শুনানি পরিচালনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম শুনানিতে অংশ নেন ও আদালত শেষে অভিযুক্তকে হাজির করার নির্দেশ ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার আবেদন মঞ্জুর করেন।
জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী জেবুন্নাহার ইসলাম পূর্বে—২০২৫ সালের ১০ আগস্ট—চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগে কেবল শহীদুল হককে নয়, তৎকালীন ডিবি প্রধান মনিরুল ইসলাম, সিটিটিসি প্রধান আসাদুজ্জামান, মিরপুর বিভাগের ডিসি মাসুদ আহমেদ, রূপনগর থানার তখনকার ওসি শহীদ আলমসহ রূপনগর থানার আরও অনামিক পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। গত সময় জব্দ করা শহীদুল হকের দুই বস্তায় ৪৮টি আলামত ধরা পড়ার কথাও আগে সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছিল।
আবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাত প্রায় ১০টায় অভিযুক্তরা জেবুন্নাহারকে ও তার দুই সন্তানকে চোখ বেঁধে অজানা স্থানে নিয়ে যায় এবং জিজ্ঞাসাবাদে তাকে ও তার স্বামীকে জঙ্গি হিসেবে স্বীকার করতে চাপ দেওয়া হয়; না করলে স্বামীর মতো ‘পরিণতি’ হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। পরে অভিযোগে বলা হয়েছে স্বামীকে হত্যা করেছে তারা। জাহিদুল হত্যার পর জেবুন্নাহার ও তার সন্তানদের আয়নাঘরে চার মাস সাতদিন গুম করে রাখা হয়েছে, বড় মেয়ে পরে একটি জঙ্গিবিরোধী অভিযানের ভুয়া ‘উদ্ধার’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয় এবং তাকে একের পর এক মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। দীর্ঘ চার বছর পর জামিনে মুক্তি পাওয়া সত্ত্বেও ২০২২ সালের ৩১ আগস্ট তার সেই জামিন বাতিল করে আবার আটক করা হয়; ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ৩১ আগস্ট পুনরায় জামিনে মুক্তি পান তিনি। ঘটনার মূল সময় ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর মিরপুর রূপনগর এলাকায় পুলিশের ওই অভিযানে জাহিদুল নিহত হন বলে অভিযোগ আছে।