২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে একের পর এক বিতর্কের পর আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে ফেডারেশন। ফিফা জানিয়েছে যে রাজনৈতিক বার্তার প্রচার, অসদাচরণ, বৈষম্যমূলক আচরণ, নিরাপত্তা প্রটোকল লঙ্ঘন ও খেলার পরে সংঘর্ষ—এই সব অভিযোগকে ভিত্তি করে ডিসিপ্লিনারি প্রসিডিংস চালানো হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বব্যাখ্যা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হয়েছে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আটলান্টায় জয় উদ্যাপনের সময় খেলোয়াড়দের একটি ব্যানারে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার দাবি প্রদর্শন করা। ফিফার বিধান অনুযায়ী আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টকে রাজনৈতিক বার্তা প্রচারের জন্য ব্যবহার করা বেআইনি এবং এজন্য বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একই ধরনের কারণে ২০১৪ সালের একটি ঘটনায় আর্জেন্টিনাকে ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছিল—এমন ইতিহাসও ফিফা বিবেচনায় এনেছে।
ফিফা জানিয়েছে বিশ্বকাপজুড়ে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের মধ্যে রয়েছে গ্যালারি থেকে মাঠে বস্তু নিক্ষেপ, বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গি, ম্যাচ শুরুর নির্ধারিত সময় বিলম্ব এবং নিরাপত্তা প্রটোকল ঠিকমতো অনুসরণ না করা। বিশেষ করে নিউ জার্সিতে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে অতিরিক্ত সময় ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করার পর খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও তদন্তের সাজেস্তা। লিয়ান্দ্রো প্যারেদেসের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে, নাহুয়েল মোলিনার বিরুদ্ধে দুটি, এবং থিয়াগো আলমাদা, কোচিং স্টাফের রবার্তো আয়ালা ও স্পেনের গাভি—প্রতিজনের বিরুদ্ধে একটি করে অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের অভিযোগ রয়েছে।
ফিফা বলেছে, সব পক্ষের ব্যাখ্যা ও প্রমাণ যাচাই করে ডিসিপ্লিনারি কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে; যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাহলে খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা, আর্থিক জরিমানা অথবা এফএ-র বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। মাঠের পারফরম্যান্স ছাড়াও রাজনৈতিক বিতর্ক ও অসদাচরণের কারণে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান এখন ফিফার নজরে রয়েছে।