বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন
Title :
মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের সড়ক-সেতু নির্মাণে ১২৩ কোটি টাকা অনুমোদন লিটন ইস্যুতে শোকজ বিসিবির, পরিবর্তন আসছে মেডিকেল বিভাগে মিয়ানমারে পাচারের সময় ২৪৫০০ কেজি সার জব্দ, আটক ৬ পাচারকারী হবিগঞ্জের পথে ট্রাক-ব্যারিকেড, সকালে সিলেট যাবেন এনসিপি নেতারা ভারতের মধ্যপ্রদেশে কৃষকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী অদৃশ্য শত্রু মাইক্রোপ্লাস্টিক: মানব শরীরে এর প্রভাব ও বাঁচার উপায় বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্য গ্রেফতার বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিতে সম্মত মিয়ানমার: আনোয়ার ইব্রাহিম বেজার বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক স্থাপনে ২১১ কোটি টাকার ব্যয় অনুমোদন

অদৃশ্য শত্রু মাইক্রোপ্লাস্টিক: মানব শরীরে এর প্রভাব ও বাঁচার উপায়

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬
  • ৩ Time View
5

দৈনন্দিন জীবনযাত্রার প্রতিটি ধাপে আমরা অজান্তেই শরীরে প্রবেশ করাচ্ছি অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিকের কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক। খালি চোখে দেখা না গেলেও বিজ্ঞানীদের গবেষণায় মানবদেহের রক্ত, ফুসফুস, যকৃত এবং মস্তিষ্কের টিস্যুতেও এই ক্ষতিকর কণার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। সম্প্রতি দেশের বাজারে কিছু টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এলেও, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন—খাবার, পানি, বাতাস ও প্রসাধনীর মাধ্যমে এটি প্রতিনিয়ত আমাদের শরীরে প্রবেশ করছে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক আসলে কী?

সাধারণত ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট আকৃতির প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো দুই ধরনের হয়ে থাকে—প্রযুক্তির মাধ্যমে শুরু থেকেই ক্ষুদ্র আকারে উৎপাদিত প্রসাধনী বা শিল্পপণ্য, এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ভেঙে যাওয়া পলিথিন, প্লাস্টিক বোতল, সিনথেটিক কাপড় ও টায়ারের কণা। পরিবেশে মিশে গিয়ে এসব কণা খাদ্যচক্রের স্থায়ী অংশে পরিণত হয়।

শরীরে কীভাবে প্রবেশ করছে?

মূলত খাবার, পানীয় এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহে ঢোকে। সামুদ্রিক মাছ, লবণ, বোতলজাত পানি, চা-ব্যাগ এবং বাতাসে ভেসে থাকা সূক্ষ্ম কণা এর প্রধান বাহক। এছাড়া প্লাস্টিকের পাত্রে গরম খাবার রাখা বা বোতলে দীর্ঘক্ষণ পানি সংরক্ষণ করলেও প্লাস্টিক কণা মিশে যেতে পারে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও উদ্বেগ কেন বাড়ছে?

সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক শুধু নিজেই ক্ষতিকর নয়, বরং এর সঙ্গে নানা রাসায়নিক উপাদানও শরীরে প্রবেশ করে। এর ফলে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, কোষের ক্ষতি, প্রদাহ, প্রজনন সমস্যা এবং হৃদ্‌রোগের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। শিশু, গর্ভবতী নারী ও বয়স্করা এই ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন।

ঝুঁকি থেকে বাঁচার উপায় কী?

পরিবেশের সব স্তরে প্লাস্টিক ছড়িয়ে পড়ায় এটি পুরোপুরি এড়িয়ে চলা অসম্ভব হলেও সচেতনতার মাধ্যমে এর প্রভাব কমানো সম্ভব:

  • প্লাস্টিকের বদলে কাচ বা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্র ও বোতল ব্যবহার করা।
  • প্লাস্টিকের পাত্রে গরম খাবার না রাখা বা গরম না করা।
  • একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার কমানো।
  • নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করা।
  • সিনথেটিক কাপড়ের পরিবর্তে সুতি বা প্রাকৃতিক তন্তুর পোশাক বেছে নেওয়া।
  • প্রসাধন সামগ্রী কেনার সময় উপাদানের বিষয়ে সতর্ক থাকা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি প্লাস্টিক উৎপাদন ও ব্যবহারে কঠোর নীতিমালা এবং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় এই অদৃশ্য হুমকি অদূর ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com