আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) যে রিপোর্ট দিয়েছে তা একতরফা এবং পক্ষপাতদুষ্ট। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কিছু আসামির পক্ষে অলংকার ছাঁচিয়ে তৈরি করা গেলে এমন প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, এইচআরডব্লিউর কেউ ট্রাইব্যুনালে এসে তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেননি এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে যাচাই না করে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। এসব মন্তব্য তিনি বুধবার (২৯ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানিয়ে বলেন। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আন্তর্জাতিক মান বিষয়ে প্রশ্ন তুলে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
একই ধরনের অভিযোগ বহু মামলায় বারবার পাওয়া যাচ্ছে — এমন প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর ব্যাখ্যা দেন যে এক জায়গায় যেখানে ১০০ জনকে শহীদ করা হয়েছে, সেখানে এক হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষিতে কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিচার চলছে; এরপর আরেকটি হত্যাকাণ্ডে অভিযোগ শুরু হলে কেসগুলোর স্টেটমেন্ট ও অভিযোগের ভাষা কাছাকাছিই দেখা দেয়। তিনি বলেন, যারা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্টে রেফারেন্স হয়েছেন তারা বিষয়গুলো ভুলভাবে উপলব্ধি করেছেন; সারাদেশে পরিকল্পিতভাবে মারণাস্ত্র ব্যবহার ও একইভাবে গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে, তাই অভিযোগের ধরন মিলবে এবং সাক্ষীরাও ঘটনার মতোই বর্ণনা করবে।
একজন প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে তা প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, অভিযোগ উঠার সঙ্গে সঙ্গেই ওই কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে ওই প্রসিকিউটরের সঙ্গে শুধু একবার নয়, মোট ২৪ বার যোগাযোগ করা হয়েছিল, যা ইঙ্গিত করে উদ্দেশ্য ছিল ট্রাইব্যুনালের বিচারকে বিতর্কিত করা। তিনি আরও বলেন, তাদের তদন্ত সংস্থায় ২৪ জন সিনিয়র কর্মকর্তা কাজ করছেন, নিজে ৩৮ বছর ধরে আইন পেশায় আছেন এবং দেশের নামকরা আইনজীবীরা প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন, তাই কারো ওপর মানহানির সুযোগ নেই। চিফ প্রসিকিউটর দাবী করেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ অন্য কোনো সংগঠন পক্ষপাতদুষ্ট রিপোর্ট দিচ্ছে যা নিয়ে তাদের প্রশ্ন আছে।