সারোয়ার আলমগীরকে সংসদ অধিবেশনে যোগদানের পথে আপাতত কোনো আইনি বাধা নেই—এমন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ, যার নেতৃত্বে ছিলেন প্রধান বিচারপতি। বুধবার (২৯ জুলাই) আপিল বিভাগ সারোয়ার আলমগীর সম্পর্কিত আপিল আবেদন তালিকা থেকে ওই আবেদনটি বাদ দিলে তিনি নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদ অধিবেশনে অংশ নিতে পারবেন। এ ব্যাপারে জাগো নিউজকে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল নিশ্চিত করেছেন যে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
অদালতে সারোয়ার আলমগীরের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মো. আহসানুল করিম এবং সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। আপিলকারী ও প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতপ্রার্থী নুরুল আমীনের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী। নুরুল আমীন হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত রাখার আবেদন করে আপিল বিভাগে ছিলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে সারোয়ার আলমগীরকে সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ না করার অনুরোধও করেছিলেন।
ঘটনাচক্রের সংক্ষিপ্ত পরিস্থিতি হলো: নির্বাচন বা তার আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করলে প্রতিদ্বন্দ্বী নুরুল আমীন ঋণ খেলাপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। ১৮ জানুয়ারি ইসি তার মনোনয়ন বাতিল করলে সারোয়ার আলমগীর হাইকোর্টে রিট করেন এবং ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট ইসির আদেশ স্থগিত করে তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেন। পরে আপিলে লিভ টু আপিল মঞ্জুর হলেও (৩ ফেব্রুয়ারি) আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি তিনি বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা হলেও তখন ফল প্রকাশ হয়নি। পরে ১৬ জুন আপিল বিভাগ হাইকোর্টকে দ্রুত রুল নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেয় এবং ৯ জুলাই হাইকোর্ট রুলে সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা, গেজেট প্রকাশ ও শপথ প্রদান করে। ১৩ জুলাই থেকে আপিল বিভাগে তার বিরুদ্ধে দায় করা আবেদন বিষয়ে শুনানি শেষ করে ২৭-২৮ জুলাই পর্যালোচনা শেষে ২৯ জুলাই আপিল তালিকা থেকে আবেদনটি বাদ দিলে সংসদে যোগদানের পথে বাধা না থাকার দাবি কার্যকর হয়।