ফরিদপুর জেনারেল (সদর) হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে থাকা সদ্য প্রসূত এক গৃহবধুকে হাসপাতালের ভেতরেই মারধর করে নবজাতক ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ঘটনার সূত্রপাত ঘটে; পুলিশ হস্তক্ষেপ করায় অভিযুক্ত শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে পরিবার জানায়।
ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ নুসরাত আক্তার (২১) কানাইপুর ইউনিয়নের মৃগী তেতুলতলা গ্রামের মাইনুদ্দিন শেখের কন্যা। প্রায় দেড় বছর আগে উলুকান্দার সৌদি প্রবাসী সিয়াম মৃধার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাগদান-বিবাহের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নির্যাতনের মুখে পড়েছেন তিনি; গর্ভাবস্থায়ও নির্যাতন বন্ধ হয়নি এবং দুই মাস আগে গর্ভবতী অবস্থায় বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে নুসরাতকে হাসপাতালে ভর্তি করে অস্ত্রোপচারে একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেয়া হয়; বুধবার বিকেলে শ্বশুরবাড়ির কয়েকজন নারী-পুরুষ হাসপাতালে এসে নবজাতক জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে নুসরাত বাধা দিলে তাকে পেটানো হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। নুসরাতের মা মর্জিনা বেগম বলেন, ঘটনাস্থলে গেলে তাকে ও কন্যাকে মারধর করে ফেলে তারা, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।
ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহামুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত করে জানান, পারিবারিক বিবাদকে কেন্দ্র করে তারা নবজাতককে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল; পুলিশে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘটনায় জড়িতরা পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, শিশুটি মায়ের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তাদের সবধরনের নিরাপত্তা ও সহায়তা নিশ্চিত করা হবে; থানায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।